Saturday, July 11, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

গাড়ির মালিক ও বাইকারদের জন্য জরুরি সতর্কবার্তা

বিআরটিএ'র নামে ভুয়া এসএমএস, আড়ালে বড় প্রতারণার ফাঁদ

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম

সারাদেশে মোটরযান মালিকদের মোবাইল ফোনে ‘স্পিডিং ফাইন’ বা দ্রুত গতিতে গাড়ি চালানোর জরিমানার কথা বলে ভুয়া এসএমএস পাঠিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এক বিশাল প্রতারণা চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। গত কয়েক দিনে অসংখ্য গাড়ি ও মোটরসাইকেল মালিক এমন বার্তা পেয়েছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেছেন।

ফেসবুকের ‘কার হাব’ নামক গ্রুপে তাজবিউল ইসলাম তন্ময় নামে এক গাড়ি ব্যবহারকারী নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে লিখেছেন, “আজ (২১ এপ্রিল) দুপুরে অফিসে বসে লাঞ্চ করছিলাম। হঠাৎ ফোনে একটা মেসেজ এলো-‘স্পিডিং ফাইন’। সাথে একটি লিংক। প্রথমে খুব একটা চিন্তা না করে লিংকে ঢুকলাম। ঢুকে দেখি আমার নামে ৩০০০ টাকার মামলা। আবার লেখা- ৩ দিনের মধ্যে পেমেন্ট করলে ৫০% ডিসকাউন্ট! এই জায়গাতেই একটু সন্দেহ হলো। ইন্টারফেসটা একদম হুবহু অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মতো। দেখে বোঝার উপায় নেই এটা ফেক।”

তন্ময় আরও লিখেছেন, “অফিসের এক কলিগকে দেখালাম। সে কম্পিউটার থেকে লিংক চেক করে দেখলো-সব ঠিক, কিন্তু ডোমেইন নামটা সামান্য আলাদা! তখনই বুঝলাম-এটা একটা ফিশিং স্ক্যাম। পেমেন্ট অপশন ছিল শুধুই ব্যাংক ট্রান্সফার। পেমেন্ট করতে গেলে ব্যাংক ডিটেইলস ও পিন দিতে হতো। মানে, একবার দিলেই সব তথ্য তাদের হাতে চলে যেত।”

মোটরসাইকেল ব্যবহারকারী রাশেদ আলমও একই ধরণের এসএমএস পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি জানান, প্রতারকেরা বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালের আদলে হুবহু ওয়েবসাইট তৈরি করে ব্যাংক তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে।

এদিকে, রাফান মাহমুদ নামে এক ব্যবহারকারী অভিযোগ তুলেছেন বিআরটিএ-র তথ্য নিরাপত্তা নিয়ে। তিনি মন্তব্য করেছেন, “প্রথমত এটা স্ক্যাম। আর এই স্ক্যাম হওয়ার পিছনে সম্পূর্ণ দায়ী বিআরটিএ, কিছুদিন আগে বিআরটিএ ওয়েবসাইট হ্যাক হয়েছিল। এখান থেকে বিপুল পরিমাণে ডাটা ব্ল্যাক মার্কেটের সেল হয়েছে, সেটার একটা রূপ এটা।”

প্রতারণা ছড়িয়ে পড়ায় বুধবার রাতে এক ফেসবুক পোস্টে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, এসব বার্তার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ট্রাফিক গুলশান বিভাগের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে প্রতারণা বর্ণনা করে ফেইসবুকে পোস্ট দেওয়া হয়েছে।

গুলশান বিভাগের ডিসি মিজানুর রহমানের লেখা এই পোস্টে বলা হয়েছে, সম্প্রতি একটি প্রতারক চক্র ভুয়া মেসেজ প্রেরণের মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে এবং জাল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ বিষয়ে সকলকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হচ্ছে।

পোস্টে আরো বলা হয়েছে, ভিডিও বা ডিজিটাল মামলার ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে কেস আইডি সংগ্রহ করে নির্ধারিত মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করতে হয়। অতএব, এ ধরনের সন্দেহজনক মেসেজ বা লিংক প্রাপ্ত হলে তাতে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকার জন্য সকলকে অনুরোধ করা হলো।

উল্লেখ্য যে, এ ধরনের কোনো মেসেজ বা অনলাইন লিংকের মাধ্যমে ট্রাফিক সংক্রান্ত জরিমানা আদায় করা হয় না। সড়কে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রাফিক সার্জেন্ট মামলা করলে সংশ্লিষ্ট মামলার একটি নির্দিষ্ট কেস আইডি প্রদান তৈরি হয়, যার ভিত্তিতে নির্ধারিত পদ্ধতিতে (যেমন: ইউক্যাশ/উপায় অ্যাপের মাধ্যমে) জরিমানা পরিশোধ করা হয়।

 

   

About

Popular Links

x