বিদেশী নাগরিকদের নিরাপত্তাকর্মীর চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অস্ত্রধারী ব্যক্তিদের রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় ডেকে এনে চোখে-মুখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে লাইসেন্স করা অস্ত্র লুট করা হয়। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে লুট হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নড়াইল জেলার কালিয়ার নাসিম উদ্দিন মোল্লা (৩০), মাগুরা জেলার মুহাম্মদপুরের রমজান আলী (৩১), একই গ্রামের সিরাজুল ইসলাম (৩২)ও ইব্রাহিম শেখ (৩১)। তাদের কাছ থেকে লুট হওয়া দু’টি শটগান, ৩৮ রাউন্ড গুলি, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি হাইয়েস মাইক্রোবাস, একটি এয়ারগান, একটি ওয়াকিটকি, চারটি মোবাইল ফোন, অস্ত্রের জাল লাইসেন্স তৈরির সিলমোহর এবং ভুয়া নম্বর প্লেটসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা হলেন বাগেরহাট জেলার শরসপুর এলাকার মোঃ রফিকুল ইসলাম শেখ, শরিয়তপুর জেলার নড়িয়া শেহের আলী মাদবরকান্দী এলাকার মোঃ রেজাউল করিম, বাগেরহাট জেলার রামপাল গবিন্ধপুর এলাকার মো.হায়দার আলী মুন্সী ও নওগাঁ জেলার ধামইরহাট লক্ষণপাড়া এলাকার মো.আব্দুল করিম।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি বলেন, “নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে চায়নাদের সাথে গানম্যান হিসেবে চাকরির বিজ্ঞাপন অনলাইনে দেখে আবেদন করেন ভুক্তভোগীরা। পরে ১৭ জানুয়ারি, ১০ এপ্রিল ও ১৯ জুন পৃথক চারটি ঘটনায় চার ভুক্তভোগীকে নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ঢাকার খিলক্ষেত এলাকায় ডেকে আনা হয়। পরে চক্রের সদস্যরা তাদের একটি হাইয়েস মাইক্রোবাসে তুলে চোখে-মুখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ফেলে রেখে চলে যান। আর ভুক্তভোগীদের নামে বৈধভাবে লাইসেন্স করা অস্ত্র ছিনিয়ে নেয় প্রতারক চক্রের সদস্যরা।“
এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় তিনটি ডাকাতি মামলা এবং ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি দস্যুতার মামলা দায়ের করা হয়। রূপগঞ্জ থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার ভোরে ঢাকার ভাটারা, বাড্ডা ও বনানী এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রটির চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, “চক্রটি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে অস্ত্রধারী ব্যক্তিদের টার্গেট করত। বিদেশীদের নিরাপত্তার চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে এনে তাদের অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়া হতো। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে জন্য নেওয়া হবে। এবং অস্ত্র লুটের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।



