Tuesday, October 20, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

গৃহকর্মীর সঙ্গে তর্কের জেরে সিলেটে ট্রিপল মার্ডার, গ্রেপ্তার রংমিস্ত্রি বাবুল

তিনি ইতোমধ্যেই পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪২ এএম

সিলেট নগরীর রায়নগরে প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা, তার স্ত্রী ও গৃহপরিচারিকাকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় রংমিস্ত্রি বাবুল মিয়া (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন।

বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে রায়নগরের রাজবাড়ী এলাকার আক্তার মিয়ার কলোনির বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। তিনি পেশায় রংমিস্ত্রি।

বুধবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম সাংবাদিকদের জানান, আটক বাবুল পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

এর আগে বুধবার সকালে রায়নগরের একটি বাসা থেকে বৃদ্ধ দম্পতি ও তাদের গৃহপরিচারিকার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হলেন বাড়ির মালিক আব্দুস সাত্তার (৯০), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং গৃহপরিচারিকা তাহমিনা বেগম (২৫)।

নিহত আব্দুস সাত্তার সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের উপদেষ্টা এবং সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সাবেক পরিচালক ছিলেন। তার চার সন্তানের মধ্যে দুজন লন্ডন ও দুজন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বাবুল মিয়া কিছুদিন আগে ওই বাসায় রঙের কাজ করেছিলেন। সে সময় গৃহপরিচারিকা তাহমিনার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তিনি তাহমিনাকে অনৈতিক প্রস্তাব দেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তাহমিনা তাকে গালিগালাজ করেন।

পুলিশ জানায়, বুধবার বাবুল আবার ওই বাসায় যান। আগের বিষয়টি নিয়ে তাহমিনার সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে বাবুল ছুরি দিয়ে তাহমিনাকে আঘাত করেন। পরে তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে সুরাইয়া বেগমকেও ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।

এরপর বাসার ড্রয়িংরুমে থাকা আব্দুস সাত্তারকেও হত্যা করেন বাবুল। পরে পেছনের বারান্দা দিয়ে দরজার ছিটকিনি আটকে দুইতলা থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে যান বলে পুলিশের কাছে দেওয়া বক্তব্যে জানিয়েছেন তিনি।

সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বাবুলকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে আটক করা হলে পুলিশের কাছে তিনি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে স্বীকারোক্তি দেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, বাবুলকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

   

About

Popular Links

x