Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কলেজে ঢুকে শিক্ষকদের মারধরের অভিযোগ বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে

জানা যায়, চাঁদা না পেয়ে ১৪৪ ধারা ভেঙে অফিস ভাঙচুর ও পাঁচ শিক্ষককে মারধর করা হয়েছে   

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৪৫ পিএম

রাজশাহীর দুর্গাপুরে দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে চাঁদা না পেয়ে ভাঙচুর ও শিক্ষকদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানা যায়।   

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।

পরীক্ষাকেন্দ্র হওয়ায় কলেজ ও এর আশপাশের ১০০ গজ এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি ছিল এবং সকাল থেকেই পুলিশ মোতায়েন ছিল। এর মধ্যেই হামলা চালানো হয় বলে জানা যায়।   

শিক্ষক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুপুরে বিএনপির স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মী কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাকের কক্ষে প্রবেশ করেন। এসময় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। বিশেষ করে কলেজের আগের অধ্যক্ষের সময়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব চান বিএনপি নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে শিক্ষক আলেয়া খাতুন হীরাকে জুতা দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। কিছুক্ষণ পর অধ্যক্ষসহ আরও কয়েকজন শিক্ষকের ওপর হামলা চালানো হয় এবং ভাঙচুরও করা হয় অফিস কক্ষে।

হামলায় আহত হয়েছেন অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক, প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরা, অধ্যাপক রেজাউল করিম আলমসহ আরও দুই কর্মচারী। এর মধ্যে কয়েকজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরা বলেছেন, "বিভিন্ন সময় কলেজে এসে তারা হিসাব চাইতেন। চাঁদা দাবিই ছিল মূল বিষয়। এসময় প্রতিবাদ করায় তিনি হামলার শিকার হয়েছেন।"  

অন্যদিকে স্থানীয় বিএনপি এক নেতাকর্মী দাবি করেছেন, এই কলেজে দীর্ঘসময় অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক। শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে কলেজের জমি, গাছপালা বিক্রিসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি করেছেন মোজাম্মেল হক। সেই সময়ের হিসাব বারবার চাইলেও কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাদের দেননি। উল্টো আমাদেরকে ভয়-ভীতি দেখিয়েছেন।

ঘটনার দিনে কলেজের শিক্ষক আলেয়া খাতুন হীরা প্রথমে তাদের ওপরে হামলা করে এবং কয়েকজন নেতাকর্মীকে চড়-থাপ্পড় মারেন। যার ফলে নেতাকর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে কয়েকজন শিক্ষককে মারধর করেছে এবং অফিস কক্ষ অফিস ভাঙচুর করেছেন বলে জানান এই নেতা। 

অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক এ বিষয়ে বলেছেন, "তিনি চার মাস আগে এই কলেজে যোগ দেন। এর পর থেকেই বিএনপি নেতাকর্মীর অনেকেই তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। তিনি এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করায় বিরোধের সূত্রপাত ঘটে।"

ঘটনার বিষয়ে দুর্গাপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম বলেছেন, "অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কায় পুলিশ আগে থেকেই সেখানে উপস্থিত ছিল এবং উভয় পক্ষকে আটকানোর চেষ্টা করেছিল।"

তবে কিছু লোক জোরপূর্বক প্রবেশ করে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

   

About

Popular Links

x