কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী (৩৫) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে র্যাব-১১। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫ জন চিহ্নিত ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা পেশাদার ছিনতাইকারী এবং তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
র্যাব কর্মকর্তা ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, গত ২৪ এপ্রিল গভীর রাতে বুলেট বৈরাগী বাস থেকে নামার পর ছিনতাইকারীরা তাকে জোরপূর্বক একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নেয়। অটোরিকশার ভেতর ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে উপর্যুপরি আঘাত করা হয়। এরপর মৃত্যু নিশ্চিত করতে চলন্ত গাড়ি থেকে তাকে ধাক্কা দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে ফেলে দেওয়া হয়।
পরদিন ২৫ এপ্রিল শনিবার সকালে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার আইরিশ হোটেলের পাশ থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশ।
কাস্টমস কমিশনার আবদুল মান্নান জানান, ৪১তম বিসিএস (নন-ক্যাডার) কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী গত ১১ এপ্রিল থেকে চট্টগ্রামে ৪৪তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছিলেন। প্রশিক্ষণ শেষে শুক্রবার রাত ১১টায় চট্টগ্রামের অলংকার মোড় থেকে তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে বাসে ওঠেন।
রাত ১টা ২৫ মিনিটে পরিবারের সঙ্গে সর্বশেষ কথোপকথনে বুলেট জানিয়েছিলেন যে, তিনি কুমিল্লার টমছমব্রিজ এলাকায় পৌঁছেছেন। এরপর থেকেই তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরিবারের ধারণা, বাস থেকে নামার পরপরই তিনি ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন।
নিহত বুলেট বৈরাগী কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে কর্মরত ছিলেন এবং পরিবার নিয়ে কুমিল্লা নগরের রাজগঞ্জ পানপট্টি এলাকায় বসবাস করতেন। তার এই অকাল ও নৃশংস মৃত্যুতে বিবিরবাজার স্থলবন্দরসহ কাস্টমস বিভাগে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। এই ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর আগে গতকাল জাতীয় সংসদে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। সংশ্লিষ্ট এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনার প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী পুলিশের ওপর থেকে জ্বালানি রেশনিং তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেন।



