ঝিনাইদহের শৈলকূপায় এক নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। নিজের বড় মেয়ের জন্য জীবনসঙ্গী হিসেবে যে যুবককে পছন্দ করেছিলেন, সেই হবু জামাতার হাত ধরেই পালিয়ে গেছেন মা রিমি খাতুন (৩৫)।
মঙ্গলবার উপজেলার চর-ত্রিবেণী গ্রামে এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর পুরো এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী স্বামী রাশেদ আলী শৈলকূপা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৮ বছর আগে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার রিমি খাতুনের সঙ্গে শৈলকূপার চর-ত্রিবেণী গ্রামের গাড়িচালক রাশেদ আলীর বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে তিন সন্তান রয়েছে। পেশাগত কারণে রাশেদকে প্রায়ই বাড়ির বাইরে থাকতে হতো। এই সুযোগে প্রায় এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকের মাধ্যমে দিনাজপুরের পার্বতীপুর গ্রামের মামুন হোসেন (২৪) নামে এক যুবকের সঙ্গে পরিচয় হয় রিমির।
মামুন নিজেকে সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে রিমির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেন। এক পর্যায়ে রিমি তাঁর বড় মেয়ের জন্য মামুনকে পাত্র হিসেবে পছন্দ করেন। তবে হবু জামাতা ও মায়ের মধ্যে অতিরিক্ত মেলামেশা এবং অস্বাভাবিক ঘনিষ্ঠতা দেখে কিশোরী মেয়েটি এই বিয়েতে সরাসরি আপত্তি জানায়।
মেয়ের অসম্মতি থাকা সত্ত্বেও মা রিমি জেদ ধরে মামুনের সঙ্গেই মেয়ের বিয়ে ঠিক করেন। কিন্তু মঙ্গলবার সবাইকে অবাক করে দিয়ে নিজের সাজানো সংসার ও তিন সন্তান ফেলে রেখে হবু জামাতা মামুনের হাত ধরে পালিয়ে যান রিমি খাতুন।
শৈলকূপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “ভুক্তভোগী স্বামী থানায় একটি জিডি করেছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
এলাকাবাসী বলছেন, এমন অনৈতিক ও নজিরবিহীন ঘটনায় ওই পরিবারের সামাজিক সম্মান ধুলোয় মিশে গেছে। আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং নৈতিক অবক্ষয়ের এমন দৃষ্টান্ত স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে পলাতক মা ও সেই যুবকের সন্ধানে পুলিশি তদন্ত চলছে।



