Tuesday, July 14, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

রবীন্দ্রজয়ন্তী ঘিরে শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে উৎসবের আমেজ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তিনদিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে

আপডেট : ০৭ মে ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে জাতীয়ভাবে তিনদিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। 

২৫শে বৈশাখ (৮মে) জন্মজয়ন্তীর আয়োজনকে ঘিরে রবীন্দ্র প্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কুঠিবাড়ীতে বিশ্বের নানা প্রান্তের কবি ভক্তদের বিচরণে প্রাণবন্ত করতে সকল ধরনের নিরাপত্তার পাশাপাশি রয়েছে নানান আয়োজন। রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত সমস্ত জিনিস রক্ষণাবেক্ষণ, অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি তাদের।

জমিদারি আর ব্যবসার কারণে বার বার কুষ্টিয়ায় ফিরে আসতেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে বসেই রচিত গীতাঞ্জলি কাব্যই এনে দিয়েছে নোবেল আর বিশ্বকবির মর্যাদা। এখানেই জাতীয় সংগীতসহ অসংখ্য কালজয়ী সাহিত্য রচনা করেছেন কবি। কুঠিবাড়িতে সংরক্ষণ আছে সেসব দিনের অনেক স্মৃতি।

এবারে বিশ্বকবির ১৬৫তম জন্মবার্ষিকীতে কুঠিবাড়ীতে জাতীয়ভাবে তিনদিনের নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও রং এর কাজ এরই মধ্যে সম্পন্ন করেছে প্রশাসন।

এবারের আয়োজন ঘিরে রবীন্দ্র প্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত জিনিসপত্র, রক্ষণাবেক্ষণ, অবকাঠামো উন্নয়নসহ জাঁকজমকভাবে অনুষ্ঠান পালন করার দাবি তাদের। পাশাপাশি গবেষণায় রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবিও রবীন্দ্র প্রেমীদের। তার সৃষ্টি কবিতা, গদ্য সব কিছু নিয়ে আরও গবেষণার দরকার বলে মনে করছেন দর্শনার্থীরা।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহযোগিতায় তিন দিনের জাতীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে জেলা প্রশাসন। সাংস্কৃতিক বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। অনুষ্ঠান সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। 

স্থানীয় কাজী সাইফুল নামে এক ব্যক্তি বলেন, “সত্যিই কবি মনভুলা হয়েছিলেন কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহে এসে। শিলাইদহে বাপ-দাদার জমিদারি দেখতে এসে সাহিত্যে ডুবে গিয়েছিলেন এখানকার মানুষের জীবন ও প্রকৃতির সান্নিধ্যে। পদ্মার বুকে বর্জা অথবা কুঠিবাড়ি আঙিনায় বসে তিনি লিখেছেন সোনার তরী, চিত্রা, চৈতালীসহ খেয়ার অধিকাংশ কবিতা। নোবেলের জন্য গীতাঞ্জলির অনুবাদও শুরু করেছিলেন এখানে বসেই। তাই প্রতিবছরের এই সময়ে কবিগুরুর স্মৃতি বিজড়িত শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে তার ভক্ত অনুরাগীদের আগমন বাড়তে থাকে।“

কুষ্টিয়া শিলাইদহ কুঠিবাড়ি কাস্টোডিয়ান আল-আমিন বলেন, “কবির গান, কবিতা, নিত্য এ সব নিয়েই আমাদের অনুষ্ঠানটি সাজানো হয়েছে। আমরা আশা করছি অতীতের চেয়ে এ বছর সবচেয়ে ভালো অনুষ্ঠান দেশবাসীকে উপহার দিতে পারবো।“

এবারের আয়োজনে থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাটক প্রদর্শনী আর গ্রামীণ মেলা। দর্শনার্থীদের সুযোগ সুবিধাসহ কুঠিবাড়িকে পূর্ণাঙ্গ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার দাবি এ অঞ্চলের মানুষের।

   

About

Popular Links

x