Wednesday, July 08, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

জুলাই থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানা গেছে 

আপডেট : ১৭ মে ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো বা পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত দিয়েছে সরকার।

গত বুধ ও বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের ধারাবাহিক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। টানা দুদিনের এই আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন পে-স্কেলের রূপরেখা, খাতভিত্তিক বরাদ্দ এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর আহরণের সার্বিক চিত্র প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। সব দিক পর্যালোচনার পর প্রধানমন্ত্রী নতুন বেতন কাঠামো চালুর নির্দেশনা দেন। 

অর্থ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রধানমন্ত্রী আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। ফলে জুলাই থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন কাঠামোতে বেতন পাবেন, এ নিয়ে এখন আর কোনো সংশয় নেই।

আগামী ৭ জুন বেলা ৩টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় বা বাজেট অধিবেশন শুরু হবে। এসময় পে স্কেলের ঘোষণা এবং এর বাস্তবায়ন কাঠামো তুলে ধরা হতে পারে বলে জানায় অর্থ মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, নতুন পে স্কেলের প্রাথমিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগামী বাজেটে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য বরাদ্দ নিয়ে কাজ চলছে। চলতি অর্থবছরে সরকারের প্রায় ১৫ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতায় প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে মূল বেতন আংশিক বাড়ানো হতে পারে। এরপর পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা।২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামোর বর্ধিত মূল বেতনের ৫০% ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে বাকি ৫০% দেওয়া হতে পারে। আর ২০২৮-২৯ অর্থবছরে যুক্ত হতে পারে ভাতাগুলো।    

এছাড়া নতুন পে কমিশনের আওতায় প্রায় ১৪ লাখ কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রায় ৯ লাখ পেনশনার আর্থিক সুবিধার আওতায় আসবেন বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।  

সুপারিশকৃত বেতন কাঠামো অনুযায়ী, প্রথম গ্রেডের বেতন হতে পারে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত। দ্বিতীয় গ্রেডে সম্ভাব্য বেতন ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার থেকে ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। তৃতীয় গ্রেডে ১ লাখ ১৩ হাজার থেকে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা এবং চতুর্থ গ্রেডে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত বেতন নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা চলছে। এ ছাড়া পঞ্চম থেকে নবম গ্রেড পর্যন্তও উল্লেখযোগ্য হারে বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।

দশম গ্রেডে সম্ভাব্য বেতন ৩২,০০০-৭৭,৩০০ টাকা এবং একাদশ গ্রেডে ২৫,০০০-৬০,৫০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এসংক্রান্ত গেজেট বা প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পরই নবম জাতীয় পে স্কেলের চূড়ান্ত রূপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। এছাড়া সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। 

অর্থ বিভাগ ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা এবং পেনশনারদের জন্য অতিরিক্ত প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে।

   

About

Popular Links

x