Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

খুলনায় হাম রোগীর ৯০% নির্ধারিত সময়ে টিকা নেয়নি

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম ওয়ার্ড রোগী আর স্বজনের চাপে জনাকীর্ণ

আপডেট : ১৯ মে ২০২৬, ০৭:০৭ পিএম

খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীর ৯০% নির্ধারিত সময়ে টিকা নেয়নি। জন্মের ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে টিকা না নেওয়ার কারণে এ রোগের উপসর্গ দেখা দিয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৯ মে) খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৪র্থ তলায় হাম রোগীর ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, ৩৮ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। বিশাল ওয়ার্ড ও বারান্দা রোগী আর স্বজন দিয়ে ভর্তি।

এ কারণে ওয়ার্ডে চিকিৎসক, নার্সসহ সকলেরই স্বাভাবিক চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। ভ্রাম্যমাণ এক্সরে মেশিন টেনে ওয়ার্ডের ভেতর নিতে অসুবিধা হচ্ছে। জনাকীর্ণ পরিবেশে চিকিৎসকরা রোগীকে ঠিকমতো দেখতে পারছেন না। ওয়ার্ডের ভেতর ও বেডের পাশাপাশি মেঝেতেও রোগী রয়েছে। বারান্দায় হাঁটার উপায় নেই।

হাম ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন সাড়ে ৩ মাসের জয়কে নিয়ে আসেন ডুমুরিয়ার আমভিটার লাবন্য। তিনি বলেন, “চার দিন জ্বরে ভোগার পর শরীরে হাম দেখা দেয়। ভোর রাতে এ হাসপাতালে আনেন। চিকিৎসা চলছে। ডাক্তাররা এসে দেখে ওষুধ দিয়েছেন। এখন শিশুটির কান্না থেমেছে।”

তেরখাদা থেকে দেড় বছরের মরিয়মকে নিয়ে হাসপাতালে আসা সাথী বলেন, “হাম শনাক্ত হওয়ার পর এ ওয়ার্ডে নিয়ে আসেন। বাচ্চাকে ৯ মাসে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ১৫ মাসের টিকা দেওয়া যায়নি। এরপর হামের কোনো টিকা দেওয়া হয়নি।”

তেরোখাদার ৯ মাসের সাফোয়ানের মা রেশমা বলেন, “এক সপ্তাহ জ্বরে ভোগার পর দুই দিন হলো হাম দেখা দেয়। এরপর এ ওয়ার্ডে আনা হয়েছে।”

নড়াইলের কালিয়া থেকে ৯ মাসের রাজ্যকে নিয়ে এ ওয়ার্ডে আসা এক মা বলেন, “ছয় দিন জ্বর ছিল। এরপর হাম দেখা দেয়। এখানে এনে তিন দিনের চিকিৎসায় কিছুটা সুস্থ্য হয়েছে।”

এ ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্সরা জানান, বেলা ১১টা পর্যন্ত এ ওয়ার্ডে ৩৮ জন রোগী ভর্তি ছিল।

ওয়ার্ডে রাউন্ডে থাকা ডা. সৈয়দা রোকসনা পারভীন বলেন, “এ ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়া রোগীর ৯০% টিকা না নেওয়া। নির্দিষ্ট সময়ে এসব রোগী হামের টিকা পায়নি। এ কারণেই এ রোগের প্রকোপ বেড়েছে। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি। আর সকলকেই বলছি, সুস্থ হয়ে বাড়ি গিয়ে আগে টিকা নিতে।”

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডের বারান্দায় রোগী

খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক জানান, হামের টিকা প্রদান লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। এখন খুঁজে খুঁজে টিকা দেওয়া হচ্ছে। অসুস্থ শিশুকে টিকা দেওয়া হচ্ছে না। অসুস্থরা সুস্থ হলে এ টিকা পাবে।

তিনি জানান, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৯ মে সকাল পর্যন্ত খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় ১১৮ জন নিশ্চিত হাম রোগী পাওয়া গেছে। সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৪,৩২৯ জন। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩,৯১২ জন। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৩,৫০৬ জন। মারা গেছে ২১ জন। মৃতের মধ্যে রয়েছে কুষ্টিয়ার ১২ জন, খুলনার ৫ জন, ঝিনাইদহের ২ জন,  চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরের ১ জন করে রয়েছে।

   

About

Popular Links

x