Thursday, July 09, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মাদ্রাসা সুপারের ছেলের উত্তরপত্র লিখছিলেন ৩ শিক্ষক, হাতেনাতে আটক

দীর্ঘদিন ধরেই অর্থের বিনিময়ে তারা এমন অনৈতিক কাজ করে আসছিলেন বলে জানা গেছে

আপডেট : ২১ মে ২০২৬, ০৯:০২ পিএম

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের চুয়ামল্লিকপাড়া রেজওয়ানুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে এসএসসি (দাখিল) পরীক্ষা চলকালীন সময়ে মাদ্রাসা সুপারের ছেলের উত্তরপত্র বাইরে বসে লেখার সময় হাতেনাতে ধরা খেলেন ৩ কক্ষ পরিদর্শক শিক্ষক। 

দীর্ঘদিন ধরেই অর্থের বিনিময়ে তারা এমন অনৈতিক কাজ করে আসছিলেন বলে জানা গেছে। 

বুধবার (২০ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিন কক্ষ পরিদর্শক শিক্ষককে হাতেনাতে ধরে ফেলেন র‍্যাব ১২-এর একটি দল। 

জানা গেছে, অভিযুক্ত পরীক্ষার্থী মো. নাসিরুল্লাহ (১৬) মহিষকুন্ডি মুসলিম নগর দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। তার বাবা মো. আব্দুল ওহাব বিশ্বাস একই মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট। 

জানা যায়, বাবার ক্ষমতার দাপট আর অবৈধ অর্থের জোরে পরীক্ষায় পাসের জন্য এ পরিকল্পনা করেছিল। নাসিরুল্লাহর জীববিজ্ঞান পরীক্ষার খাতা হলের ভেতরে নয়, বরং পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে বসে লিখে দিচ্ছিলেন আটক হওয়া সেই ৩ শিক্ষক। 

​আটক হওয়া শিক্ষকরা হলেন- মো. বজলুর রহমান (৪৮), মো. নুরুল ইসলাম (৪৫) এবং মোছা. মাতোয়ারা খাতুন মায়া (৪০)। এই তিন শিক্ষকের কেউই ওই কেন্দ্রের অফিশিয়াল ডিউটিতে ছিলেন না। তারা কেবল তাদের মাদ্রাসা সুপারের ছেলের খাতা লিখে দিতেই অবৈধভাবে কেন্দ্রে গিয়েছিলেন। 

শিক্ষকদের এই ‘কীর্তি’ ফাঁসের পর পরীক্ষা কেন্দ্র ও এর আশেপাশে তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রভাবশালীদের একটি মহল তড়িঘড়ি করে এসে অভিযুক্ত শিক্ষকদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। 

পরে, পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাস।

তদন্তে নেমে বেরিয়ে আসে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাস জানান, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগেও বাইরে থেকে খাতায় লিখে এনে জমা দেওয়ার মতো গুরুতর অনিয়ম এখানে ঘটেছে। বুধবারে র‍্যাবের হাতে ৩ শিক্ষক আটক হওয়ার পর বিষয়টি সত্য প্রমাণিত হয়েছে।  

তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী নাসিরুল্লাহকে বহিষ্কার করা হয়। তবে শিক্ষকরা কেন্দ্রের বাইরে আটক হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া না গেলেও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। 

নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে শিক্ষকদের জালিয়াতিতে বাধ্য করা এবং ছেলের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া সেই ‘সুপার’ বাবা এখন পলাতক রয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে তার মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে। 

বর্তমানে আটক তিন শিক্ষক র‍্যাবের হেফাজতে রয়েছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। 

 

   

About

Popular Links

x