ঈদ-উল-আজহাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে কোরবানির প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। এবার দেশে কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণে সরকার যেমন ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে, তেমনি পুরান ঢাকার লালবাগের পোস্তার আড়তদাররাও কাঁচা চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। তবে নানা সংকটের কারণে এবার কাঁচা চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, ধারাবাহিক লোকসান, ব্যবসায়ী কমে যাওয়া এবং ট্যানারি মালিকদের সরাসরি চামড়া কেনার প্রবণতা বাড়ায় পোস্তায় আগের মতো চামড়া আসে না। একসময় ঈদের তিন দিনে যেখানে প্রায় ৩ লাখ পিস চামড়া সংরক্ষণ করা হতো, এখন তা নেমে এসেছে প্রায় ১ লাখ পিসে। এ বছরও ব্যবসায়ীরা ১ লাখ পিস চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) পুরান ঢাকার পোস্তা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ঈদকে সামনে রেখে প্রায় ৭০টি আড়ত প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আড়তদাররা গুদাম পরিষ্কার করে রেখেছেন এবং পর্যাপ্ত লবণ মজুত করেছেন। কারণ কোরবানির পশুর চামড়া ছাড়ানোর ৪ থেকে ৮ ঘণ্টার মধ্যে লবণ প্রয়োগ না করলে তা দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত গরম ও বৃষ্টির কারণে এবার চামড়া সংরক্ষণে বাড়তি সতর্কতা নিতে হচ্ছে। তাদের মতে, সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা গেলে চামড়ার ভালো দাম পাওয়া সম্ভব হবে।
এদিকে সরকার লবণযুক্ত গরুর কাঁচা চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুটে ২ টাকা বাড়িয়েছে। ঢাকার ভেতরে গরুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি বর্গফুট ৬২ থেকে ৬৭ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৫৭ থেকে ৬২ টাকা। এছাড়া খাসির চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং বকরির চামড়ার দাম ২২ থেকে ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
চামড়ার গুণগত মান ঠিক রাখতে সরকার মাদ্রাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহের জন্য ১৭ কোটির বেশি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২ কোটি ৬৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ জানান, দেশে এ বছর প্রায় এক কোটি পশু কোরবানি হতে পারে। এর মধ্যে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ চামড়া নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকায় তারা ৮০ থেকে ৮৫ লাখ পিস চামড়া সংগ্রহের প্রস্তুতি নিয়েছেন।
অন্যদিকে বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মঞ্জুরুল হাসান বলেন, “পোস্তায় আগের মতো চামড়া না এলেও ব্যবসায়ীদের প্রস্তুতি সম্পন্ন। তবে চামড়ার সঠিক সংরক্ষণ নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।“
চামড়া খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত লবণ প্রয়োগ এবং সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে এ বছর চামড়ার বাজার গত কয়েক বছরের তুলনায় ভালো যেতে পারে।



