Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

গোপালগঞ্জে ৫ নিহতদের মধ্যে ৩ জন একই পরিবারের

ঈদের দিনে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে বাস-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে তারা নিহত হন

আপডেট : ২৮ মে ২০২৬, ০৭:৪৫ পিএম

ঈদ-উল-আজহার দিন গোপালগঞ্জে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জ শহরের বেদগ্রামে এ মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।

বাসযাত্রী আহত মোহাম্মদ জামাল শিকদার বলেন, “গাড়ির মাঝামাঝি সিটে বসা ছিলাম। গাড়িটি ঢাকা থেকে পিরোজপুরের দিকে যাচ্ছিল। গোপালগঞ্জ শহরের বেদগ্রাম পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা বেপরোয়া গতির একটি মোটরসাইকেল গাড়ির নিচে ঢুকে যায়। এতে আমাদের বাসচালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। বাসটি রাস্তার ওপরে উল্টে  যায়। বাসে ৩৫ জনের মতো যাত্রী ছিল। সবাই কমবেশি আহত হয়েছেন।”

নিহত সোয়েব শেখের বন্ধু সাহারুল ইসলাম জানান, মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ি গ্রামে মহামানব গনেশ পাগলের কুম্ভ মেলায় যাচ্ছিল সোয়েব ও শাওন। তারা ১১টার দিকে বড়বাড়িয়া গ্রাম থেকে একটি মোটরসাইকেলে করে কদম বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেয়। গোপালগঞ্জের বেদগ্রামে পৌঁছালে বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে তাদের মৃত্যু হয়। সোয়েব চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।

নিহতরা হলেন: পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার কলারদোনিয়া গ্রামের আবু হানিফের ছেলে মো. সোহাগ (৩৬), তার স্ত্রী খাদিজা খাতুন (৩০), ছেলে মো. আরমান (৬), মোটরসাইকেল চালক বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলার বড়বাড়িয়া গ্রামের শাওন ঢালী (২২) ও্ আরোহী একই গ্রামের মাহাবুব শেখের ছেলে সোয়েব শেখ (১৬)। 

মারাত্মক আহতরা হলেন: অঞ্জনা সিকদার (৩৫), পূর্ণিমা (২৫), মিন্টু (৪০), তামান্না (২২), ফেরদৌস (২৫), রনি (২৩), মনির (৫৫), শান্তা (২১), সাদিয়া (২৭), সজিব (২৫) ও হৃদয় (৩০)। তাদের গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্য্ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. হাবীবুল্লাহ জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পিরোজপুরগামী দোলা পরিবহনের একটি বাস ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জ শহরের বেদগ্রামে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাসটি রাস্তার উপর উল্টে যায় এবং মোটরসাইকেলটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলে মোটরসাইকেলের দুই আরোহীসহ চারজন নিহত হন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে ছয় বছরের  শিশু আরমানের  মৃত্যু হয়। আহত হন আরও ২৫ বাসযাত্রী। এর মধ্যে ১১ জনকে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। বেপরোয়া গতি, মাত্রাতিরিক্ত ওভার টেকিংয়ের কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানান তিনি।

ভাটিয়াপাড়া হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নৃপেন কুমার দাস বলেন, “সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচজনের মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল চত্বরে করা হয়েছে। আইনী প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

গোপালগঞ্জ হাসপাতালে আহাজারি

খবর পেয়ে বিকেল ৫টার পর গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আসেন নিহত গৃহবধূ খাদিজা খাতুনের বাবা মো. খালেক (৬০) ও ভাই মেহেদী হাসান (৩২)। তারা মরদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাদের আহাজারিতে এলাকায় শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

খালেক বলেন, “ঢাকা থেকে আমার মেয়ে, জামাই ও নাতি ঈদে বেড়াতে গ্রামে আসছিল। বেলা ১১টার দিকে তাদের সঙ্গে আমার শেষ কথা হয়। তখন তাদের গাড়ি ভাঙা পৌঁছেছিল। তারপর অনেকবার ফোন দিয়েছি। কিন্তু ফোন ধরেনি। মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে ছুটে এসেছি। আমার মেয়ে-জামাইয়ের সংসার শেষ হয়ে গেল। তাদের বড় ছেলে রহমতুল্লাহ এতিম হয়ে গেল। আমি মেয়ে-জামাই-নাতির এ মৃত্যু সহ্য করতে পারছি না।”

তিনি লাশের পাশে গড়াগড়ি যাচ্ছিলেন। আবার কখনও কাঁদছিলেন।    

   

About

Popular Links

x