খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সম্প্রতি আগুন লাগার কারণ নির্ণয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি ঈদের আগেই প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এ প্রতিবেদন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
কিন্তু খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ স্টোরে আগুন লাগার ১২ দিন পার হয়ে গেলেও এখনও শুরু হয়নি মেরামত কাজ। অপারেশন থিয়েটার (ওটি) বন্ধ থাকায় চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে চরম ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। অস্ত্রোপচারের অপেক্ষায় থাকা শত শত রোগী ও তাদের স্বজনরা মানবিক সংকটে পড়েছেন।
প্রতিবেদনে আগুন লাগার কারণ বৈদ্যুতিক ত্রুটিকেই শনাক্ত করা হয়েছে। ক্ষতি নিরুপনে তদন্ত করছে ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত টিম। এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতালে অপারেশন গত ১২দিন ধরে বন্ধ রয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আগুনের ঘটনায় অপারেশন থিয়েটার এবং পোস্ট-অপারেটিভ ইউনিটের অক্সিজেন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই দিন থেকে হাসপাতালে জরুরি এবং চোখের অপারেশন থিয়েটার পুরোপুরি বন্ধ হয়, এছাড়া অক্সিজেন বন্ধ থাকায় ব্যবহার অনুপোযোগী হয়েছে পোস্ট অপারেটিভ ইউনিট। ফলে মুমূর্ষু রোগী অপারেশনের অপেক্ষায় মৃত্যু ঝুঁকিতে রয়েছে।
হাসপাতালে সার্জারি, নিউরোসার্জারি, ইউরোলজি, বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগ দেখা যায়, রোগীরা এখানে অপারেশনের অপেক্ষায় রয়েছেন।
বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ থেকে এছার জোমাদ্দার (৩৫) দেড় মাস আগে ব্রেন টিউমারের অপারেশন করতে ভর্তি হয়েছিলেন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। অপারেশন হয়নি, বরং মুমূর্ষু অবস্থায় এখন তাকে রেফার করা হয়েছে ঢাকা মেডিকেলে।
নার্ভের অপারেশন করাতে সুলতানা আক্তার নাইচ ১ মাসের বেশি সময় রামপাল থেকে এসেছেন এ হাসপাতালে। ৩ বছরের শিশু সন্তান নিয়ে তার স্বামীও বাড়ি ঘর ছেড়ে থাকছেন হাসপাতালে। অপারেশনের তারিখ নির্ধারিত ছিল ২০ মে। সেইদিনই হাসপাতালে আগুন লাগায় অপারেশন হয়নি। আর কবে হবে, তা বলতে পারছে না কেউ।
সাতক্ষীরা থেকে আসা শহিদুল ইসলাম বলেন, “২ মাস আগে অপারেশনের তারিখ পেয়েছিলাম। সব প্রস্তুতি নিয়ে হাসপাতালে আসার পর জানতে পারি অপারেশন হবে না। কবে হবে কেউ বলতে পারছে না।”
হাসপাতাল পরিচালক ডা. কাজী আইনুল ইসলাম বলেন, “তদন্ত কমিটির কাজ শেষ করেছে। ঈদের আগেই প্রতিবেদন জমা হয়েছে। তাতে আগুন লাগার কারণ হিসেবে বৈদ্যুতিক ত্রুটি বলে ধারণা করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “গণপূর্ত অধিদপ্তরের সঙ্গে কথা বলেছি। নির্বাহী প্রকৌশলী ২ জনের স কথা বলেছি, একজন বললেন অ্যাসেসমেন্ট শেষ, শিগগিরি কাজ শুরু হবে। অন্য নির্বাহী প্রকৌশলী একবার এখানে এসেছেন। পুরোপুরি এসেসমেন্টই এখনও শেষ করেননি।”
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এনেস্থেশিয়া বিভাগের বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. দিলিপ কুণ্ডু বলেন, “অপারেশন থিয়েটার ঠিকই আছে, খুব বেশি ক্ষতি হয়নি। শুধু অক্সিজেন এর পাইপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার লাইনও বাইরে থেকে নেওয়া, দেয়ালের ভিতর থেকে না। তাহলে এতো সময় লাগবে কেন? একটা অপারেশন থিয়েটার চালু আছে, কিন্তু পোষ্ট অপারেটিভ চালু না থাকায় আইসিইউ থেকে ৬টি বেড পোষ্ট অপারেটিভ হিসাবে চালানো হচ্ছে। এতে আইসিইউ রোগীদের সংকট তৈরি হয়েছে।”
খুলনা গণপূর্ত বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হালিম বলেন, “দ্রুত কাজ শুরু হবে। অ্যাসেসমেন্ট সব শেষ হয়েছে। কিন্তু কাজ শুরু করা যায়নি। খুব দ্রুত কাজ শেষ করে অপারেশন থিয়েটার চালু করতে পারবো।”



