Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

তুরস্ককে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল দিতে চায় বাংলাদেশ

বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান

আপডেট : ০৫ জুন ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম

বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও জোরদারে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে তুর্কি বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) ঢাকায় সফররত তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান-এর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এ লক্ষ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি তুরস্কের সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের বিভিন্ন বেসরকারি ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে।

তিনি জানান, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশের বিদ্যমান প্রণোদনা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সম্পর্কে তুরস্ককে অবহিত করা হয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ বাজার এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে শিল্প, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে খলিলুর রহমান বলেন, এই সফর বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে পরিণত হয়েছে। উভয় দেশ দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, টেক্সটাইল ও পোশাকশিল্প, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন, জাহাজ নির্মাণ, ওষুধশিল্প, অবকাঠামো উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, স্মার্ট প্রযুক্তি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতে তুরস্কের বিনিয়োগের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ঢাকায় আন্তর্জাতিক মানের একটি হাসপাতাল ও নার্সিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও তুরস্ককে দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য তুরস্কে বৃত্তির সংখ্যা বাড়ানোর অনুরোধও জানানো হয়। বর্তমানে প্রায় তিন হাজার বাংলাদেশি নাগরিক তুরস্কে বসবাস করছেন, যাদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী।

দুই দেশের মধ্যে সংস্কৃতি, পর্যটন, শিক্ষা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ আরও সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

এদিকে বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টিও উঠে আসে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রায় নয় বছর ধরে চলমান এ সংকটের দ্রুত ও টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। বাংলাদেশের প্রত্যাশা, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে বৈশ্বিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার হবে।

   

About

Popular Links

x