Sunday, June 07, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ঈদযাত্রায় সড়ক-রেল-নৌপথে দুর্ঘটনায় নিহত ৪৩৮ জন

সড়ক দুর্ঘটনার ৩৮.৮৩% এবং ১৫৯ জন নিহত হওয়ায় এবারও শীর্ষে মোটরসাইকেল

আপডেট : ০৭ জুন ২০২৬, ০১:০৯ পিএম

ঈদ-উল-আজহার সময়ে ১৫ দিনে যাতায়াতে সারাদেশে সড়ক, রেল ও নৌপথে মোট ৪৪২টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ৪৩৮ জন নিহত এবং ১,৩৪০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

রবিবার (৭ জুন) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির মহাসচিব বলেন, ঈদ-উল-আজহায় সারাদেশে ৩৯৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০২ জন নিহত ও ১,২৯৪ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে রেলপথে ৩১টি দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত ও ৩০ জন আহত হয়েছেন। নৌপথে ১৭টি দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত ও ১৬ জন আহত হয়েছেন। সড়ক, রেল ও নৌপথে সর্বমোট ৪৪২টি দুর্ঘটনায় ৪৩৮ জন নিহত এবং ১,৩৪০ জন আহত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ঈদযাত্রা শুরুর দিন ২১ মে থেকে ঈদের পর কর্মস্থলে ফেরা ৪ জুন পর্যন্ত ১৫ দিনে সারাদেশে ৩৯৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০২ জন নিহত এবং ১,২৯৪ জন আহত হয়েছেন। গত বছর ঈদ-উল-আজহায় ৩৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৯০ জন নিহত ও ১,১৮২ জন আহত হয়েছিলেন। সে হিসেবে এবার সড়ক দুর্ঘটনা ৩.৯৫%, প্রাণহানি ৩.০৭% এবং আহতের সংখ্যা ৯.৪৭% বেড়েছে।

প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, বরাবরের মতো এবারও দুর্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল। ঈদে ১৫৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৫৯ জন নিহত এবং ১৮০ জন আহত হয়েছেন, যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৮.৮৩%।

এ সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের মধ্যে ৮০ জন চালক, ৮৯ জন পরিবহন শ্রমিক, ৫৯ জন পথচারী, ৬৪ জন নারী, ৪৫ জন শিশু, ৬৬ জন শিক্ষার্থী, পাঁচজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, তিনজন শিক্ষক, একজন চিকিৎসক, তিনজন সাংবাদিক, একজন প্রকৌশলী এবং চারজন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।

দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের মধ্যে ২৮.৯০% মোটরসাইকেল, ২১.৪০% ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ১৬.৫৬% বাস, ১২.৩৪% ব্যাটারিচালিত রিকশা, ৭.৮১% কার ও মাইক্রোবাস, ৬.৫৬% নছিমন-করিমন এবং ৬.৪০% সিএনজিচালিত অটোরিকশা ছিল।

এছাড়া মোট দুর্ঘটনার ৫০.৫০% জাতীয় মহাসড়কে, ৩০.৭১% আঞ্চলিক সড়ক ও মহানগর এলাকায়, ০.২৫% চট্টগ্রাম মহানগরীতে, ১.৫২% রেলক্রসিংয়ে এবং ১৪.৪৬% ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে।

মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, “ঈদকে কেন্দ্র করে ১০-১২ দিনের তৎপরতা নয়, বরং মানুষের জীবন রক্ষা ও যাতায়াতের ভোগান্তি কমাতে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। গণপরিবহন ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন জরুরি। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে। প্রযুক্তিনির্ভর সড়ক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু, মহাসড়ক থেকে ছোট যানবাহন পর্যায়ক্রমে অপসারণ, চালকদের উন্নত প্রশিক্ষণ নিশ্চিতকরণ এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহন উচ্ছেদ করতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাসড়কে ‘স্টার’ মানের সড়ক নিরাপত্তা করিডোর গড়ে তুলতে হবে।”

   

About

Popular Links

x