Thursday, June 11, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

আত্মস্বীকৃত থানা পুড়িয়ে দেয়া নেতা আশ্রয় নিলেন থানাতেই

ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে তাকে ধাওয়া দেওয়ার অভিযোগ 

আপডেট : ১১ জুন ২০২৬, ০২:৫০ এএম

হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার সদস্যসচিব মাহাদী হাসান ফেসবুকে দেওয়া একটি রাজনৈতিক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে তাকে ধাওয়া দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। তবে জেলা ছাত্রদল এবং পুলিশ এ অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা অস্বীকার করেছে।
বুধবার (১১ জুন) দুপুরে শহরের বৃন্দাবন সরকারি কলেজ এলাকার সামনে এ ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন মাহাদী হাসান। বিকেলে মুঠোফোনে তিনি জানান, ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে বিআরটিএ কার্যালয়ে গিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে ইজিবাইকে করে বাসায় ফেরার পথে ছাত্রদলের কিছু নেতা-কর্মী তাকে ধাওয়া করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মাহাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া একটি রাজনৈতিক স্ট্যাটাসে তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমালোচনা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রশংসা করেছিলেন। ওই স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করেই ছাত্রদলের একটি অংশ ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে।
ঘটনার সময় মাহাদী ফেসবুক লাইভে এসে উত্তেজিত কণ্ঠে দাবি করেন, প্রাণভয়ে তিনি হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় আশ্রয় নেন। লাইভ ভিডিওতে তার সঙ্গে ইজিবাইকে থাকা আরেক ব্যক্তিকেও দেখা যায়। পরে থানায় গিয়ে তিনি পুলিশের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন।
থানা সূত্র জানায়, মাহাদী থানায় পৌঁছানোর সময় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উপস্থিত ছিলেন না। তিনি ডিউটি অফিসারকে ধাওয়ার অভিযোগ জানালে একজন এসআই ঘটনাস্থল ও থানার ফটক পর্যন্ত গিয়ে কাউকে দেখতে পাননি। মাহাদী প্রায় এক ঘণ্টা থানায় অবস্থান করেন। পরে ওসি থানায় এলে বিষয়টি তাকে অবহিত করা হয়।
অন্যদিকে, মাহাদীর অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি করেছে জেলা ছাত্রদল। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহমেদ বলেন, মাহাদীর সঙ্গে ধাওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। নিজের গুরুত্ব বাড়ানোর জন্য তিনি মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
তিনি বলেন, "যদি সত্যিই তাকে ধাওয়া করা হয়ে থাকে, তাহলে ফেসবুক লাইভে সেই দৃশ্য কেন দেখা যায়নি? কারা তাকে ধাওয়া করেছে, তাদের কাউকেই তো ভিডিওতে দেখা যায়নি। এতে বোঝা যায় পুরো বিষয়টি সাজানো।"
এদিকে হবিগঞ্জ সদর থানার ওসি জাহিদ হোসেন জানান, মাহাদীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করেছে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করা হয়েছে এবং স্থানীয় লোকজনের সঙ্গেও কথা বলা হয়েছে। তবে অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ বা প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য পাওয়া যায়নি।
তবে মাহাদী হাসান লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি আরও বিস্তারিতভাবে তদন্ত করা হবে বলে জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২ জানুয়ারি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় শায়েস্তাগঞ্জ থানায় গিয়ে তৎকালীন ওসিকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া মাহাদী হাসানের একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। ওই ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, "বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু আমরা জ্বালাই দিয়েছিলাম।" ভিডিওটি প্রকাশের পর তিনি ব্যাপক আলোচনায় আসেন।

   

About

Popular Links

x