Thursday, July 02, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মারধরে কিশোর দৃষ্টিশক্তি হারানোর মামলায় ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার

সাভারের এ ঘটনার অভিযুক্ত থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদককে বহিষ্কার করা হয়

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম

ঢাকার সাভারে রিপন ঋষি নামে এক কিশোরকে মারধরে দৃষ্টিশক্তি হারানোর মামলার প্রধান আসামি ও বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা মাহাবুর হোসেন সামিরকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সন্ধ্যায় ঢাকা জেলা উত্তরের গোয়েন্দা পুলিশের ইনচার্জ সাইদুর ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে বিকেলে রাজধানীর সদরঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তার মাহাবুর হোসেন সামির সাভার সদর ইউনিয়নের দেওগাঁ এলাকার বাসিন্দা। তিনি সাভার থানা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

ঢাকা জেলা উত্তরের গোয়েন্দা পুলিশের ইনচার্জ সাইদুর ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার মারধরে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে এক কিশোর। সেই মামলার প্রধান আসামি সামির। তার বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় আরও মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তার সামিককে সাভার মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ মে বিকেলে সাভারের মধ্য রাজাশনের পালোয়ানপাড়া এলাকায় সমবয়সী কয়েকজনের সঙ্গে খেলাধুলা করছিল রিপন। এ সময় স্থানীয় এক কিশোরের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ধাক্কা লাগার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে ওই কিশোরের বড় ভাই হিসেবে পরিচিত ছাত্রদল নেতা মাহাবুব হোসেন সামির ওরফে ফেন্সি সামির ক্ষুব্ধ হয়ে রিপনকে খুঁজে বের করার জন্য তার সহযোগীদের নির্দেশ দেন।

এর ধারাবাহিকতায় গত ২ জুন বিকেল ৪টার দিকে রাজাশন পালোয়ানপাড়া এলাকায় রাজধানী বেকারির সামনে থেকে রিপনকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে সামিরের ব্যক্তিগত অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে দেয়ালের সঙ্গে মাথা আছড়ে মারাসহ লাঠি দিয়ে দুই চোখে উপর্যুপরি আঘাত করা হয়। এতে তার দুই চোখের কর্নিয়া মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। নির্যাতনের সময় অভিযুক্তদের একজন মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী একপর্যায়ে রিপন অচেতন হয়ে পড়লে অভিযুক্তরা তাকে মৃত ভেবে বাড়ির সামনে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।

লিখিত অভিযোগে মাহাবুব হোসেন সামির ওরফে ফেন্সি সামির ছাড়াও মানিক ওরফে পিস্তল মানিক, সজিব এবং আলাউদ্দিন ওরফে আলমগীরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অপহরণ, অবৈধভাবে আটক, গুরুতর শারীরিক নির্যাতন এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়।

   

About

Popular Links

x