বগুড়ার মোকামতলায় নবগঠিত ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শুক্রবার (১৯ জুন) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রীর দুই ছেলের নামের সাথে মিলে যাওয়ায় ও বিতর্কের সৃষ্টি হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক জানান, গত শুক্রবার বিকেলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মোবাইল ফোনে কল করে ওই দুটি ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি আপাতত মৌখিকভাবে জানিয়েছেন এবং এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক চিঠি আজ পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ইউনিয়ন দুটির নাম পরিবর্তনের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। নতুন নাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের মতামত, এলাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং ভৌগোলিক পরিচিতিকে গুরুত্ব দিয়ে পুনঃগণশুনানি করা হবে। চিঠি আসার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলব।”
নতুন নাম চূড়ান্ত করার আগে আরেকটি গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষক, পেশাজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে মতামত দিতে বলা হবে। এরপর প্রস্তাবিত নামগুলো যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর নতুন নাম চূড়ান্ত করে গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।
গত ১১ জুন বগুড়ার জেলা প্রশাসকের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে শিবগঞ্জ ও নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠনের মাধ্যমে চারটি নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়। এর মধ্যে শিবগঞ্জ উপজেলায় নতুন ইউনিয়নের নাম দেওয়া হয় মীরবাড়ী এবং মোকামতলা উপজেলায় গঠিত তিনটি ইউনিয়নের নাম রাখা হয় সীমান্ত, দিগন্ত ও স্বর্ণগ্রাম।
এই নামকরণের পরেই অভিযোগ ওঠে, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পৈতৃক বাড়ির নাম মীরবাড়ী এবং তার বড় ছেলে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত ও ছোট ছেলে মীর সাকলাইন আলম দিগন্তের নামের সঙ্গে মিল রেখে সীমান্ত ও দিগন্ত ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয় এবং নামকরণের স্বচ্ছতা ও গণশুনানি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এমনকি বিষয়টি জাতীয় সংসদেও উত্থাপিত হয়।
তবে অভিযোগ নাকচ করে সংসদে শাহে আলম বলেন, “নামগুলো অলৌকিকভাবে তার ছেলেদের নামের সঙ্গে মিলে গেছে।”



