Monday, June 22, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

গ্রামে দেখা গেলো বাঘের মতো প্রাণী, এলাকাজুড়ে আতঙ্ক

প্রাণীটি আসলে কী, তা নিশ্চিত করতে আরও তদন্ত করা হবে বলেও জানায় বন বিভাগ

আপডেট : ২২ জুন ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম

নাটোর সদর উপজেলার লক্ষীপুর ওষুধি গ্রাম সংলগ্ন একটি সড়কের পাশে বাঘ আকৃতির এক রহস্যময় প্রাণীর দেখা মেলার খবরে পুরো এলাকাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর গ্রামবাসীর মধ্যে ভয় আরও দানা বেঁধেছে। তবে বন বিভাগ ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের দাবি, এটি বাঘ নয়, বরং বড় আকৃতির একটি শিয়াল।

রোববার (২১ জুন) সন্ধ্যার ঠিক আগে ওষুধি গ্রামের আমিরগঞ্জ বাজারের সড়কের পাশে একটি ভুট্টা ক্ষেতের ধার দিয়ে প্রাণীটিকে হেঁটে যেতে দেখেন স্থানীয়রা। এ সময় শহিদুল্লাহ নামের এক যুবক দূর থেকে নিজের মোবাইল ফোনে প্রাণীটির একটি ভিডিও ধারণ করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী শহিদুল্লাহ বলেন, “ভুট্টার জমির মধ্যে দিয়ে বাঘের মতো দেখতে প্রাণীটি হেঁটে যাচ্ছিল। আমি মোবাইল ফোনে সেটির ভিডিও করি। মুহূর্তের মধ্যে এক-দেড়শ মানুষ জড়ো হয়ে চিৎকার করে প্রাণীটিকে ধাওয়া দিলে সেটি মাঠের ভেতরের ঘন ভুট্টা ক্ষেতে ঢুকে পড়ে। এরপর আর সেটিকে দেখা যায়নি।”

স্থানীয় বাসিন্দা নুরুজ্জামান জানান, বাঘের খবরের পর থেকে পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। অভিভাবকেরা ভয়ে বাচ্চাদের বাড়ির বাইরে বের হতে দিচ্ছেন না এবং সবাই নিজ দায়িত্বে সতর্কতা অবলম্বন করছেন।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মুনসুর রহমান বলেন, “আমরা বিষয়টি শুনেছি এবং গ্রামবাসীকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছি। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর একা চলাচল না করতে এবং গবাদিপশু নিরাপদ স্থানে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”

এদিকে ভিডিওটি পর্যালোচনার পর রাজশাহী বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবির জানান, নাটোর মূলত একটি কৃষিনির্ভর জেলা এবং এটি সুন্দরবন থেকে অনেক দূরে অবস্থিত। ভৌগোলিক কারণে এখানে বাঘ আসার কোনো সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, “ভিডিও দেখে এটি বড় আকৃতির শিয়াল মনে হয়েছে। বাঘ হলে লোকজনকে দেখে আক্রমণ করত, কিন্তু প্রাণীটি তা না করে মানুষের তাড়া খেয়ে পালিয়ে গেছে। সুতরাং এটি বাঘ নয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রাণীটি আশপাশের জলাভূমি বা ঝোপঝাড়ে আশ্রয় নিয়েছে।”

নাটোর ফরেস্ট রেঞ্জার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (বন বিভাগ) মোঃ জাহিদুল ইসলাম বলেন, “ভিডিওতে প্রাণীটিকে স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা না গেলেও এ অঞ্চলে বাঘের অস্তিত্ব নেই। জনগণের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। যদি পরবর্তীতে প্রাণীটিকে আবার দেখা যায়, তবে কেউ যেন সেটিকে বিরক্ত বা উত্যক্ত না করেন।”

তিনি আরও জানান, বন বিভাগের টিম ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করছে। যদি প্রয়োজন হয়, তবে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে প্রাণীটি আসলে কী, তা নিশ্চিত করতে আরও তদন্ত করা হবে বলেও জানায় বন বিভাগ।

   

About

Popular Links

x