রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় পরিবারের আপত্তি সত্ত্বেও নিজের পছন্দে বিয়ে করায় ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহত নারীর ভাই ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৭ জুন) গ্রেপ্তার দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। এর আগে, শুক্রবার (২৬ জুন) পীরগাছা থানায় এ নিয়ে একটি হত্যামামলা দায়ের করা হয়।
পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিবুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, পীরগাছা উপজেলার সতন্তরা গ্রামের নুরুন্নবী মিয়ার মেয়ে নূপুর এবং পার্শ্ববর্তী পাঠক শিকড় গ্রামের মমিন মিয়ার ছেলে আহাদ হোসেন প্রায় আট মাস আগে পারিবারিক আপত্তি উপেক্ষা করে নিজেরা বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে নূপুরের পরিবার স্বামীর সঙ্গে সংসার না করতে চাপ দিয়ে আসছিল। বিভিন্নভাবে নুপুরের স্বামীকে তারা হুমকিও দিতেন।
নিহত নূপুরের স্বামী আহাদ হোসেনের অভিযোগ, এ বছরের ১৮ ফ্রেরুয়ারি তার শাশুড়ি ফোন করে শ্বশুরের অসুস্থতার কথা জানিয়ে নূপুরকে বাবার বাড়িতে পাঠাতে বলেন। এর দুই দিন পর তাকেও ডাকা হয়। সেখানে গেলে নূপুরকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে তার পরিবারে লোকজন। এরপর নূপুরের কাছে জোর করে তালাকনামায় স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে ১৮ ফ্রেরুয়ারি সকালে তাকে ফোন করে জানানো হয় নূপুর “আত্মহত্যা” করেছে। তাকে হত্যা করে “আত্মহত্যা” বলে চালিয়ে দেওয়ার উদ্দেশে মরদেহটি একটি ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে নিহত ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়। সেই সময় মামলা না হলেও পুলিশ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন।
এ বিষয়ে ওসি মহিবুল ইসলাম জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন তাদের কাছে আসে। সেখানে দেখা যায় নূপুরকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে এবং তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, পরে শুক্রবার ভোরে নিহত নূপুরের ভাই খালিদ হাসান মিলু (২৫) ও তার স্ত্রীকে (২২) গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলায় নিহত নূপুরের মা মিতু বেগম (৫০), ফুফু ফেরদৌসি বেগম (৪৫), ভাই খালিদ হাসান মিলু (২৫) ও তার দিলরুবা আক্তার দিশা (২২) এবং অজ্ঞাতনামা আরো তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
ওসি জানান, রবিবার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন আদালতে করা হবে। আদালত আদেশ পাবার পর রিমান্ডে এনে ঘটনার সঙ্গে কারা কারা জড়িত ছিলো তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান।



