Thursday, July 02, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

শ্রমিক নেতা নিহত, যুবদল নেতার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ

বুধবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৬, ১২:০৪ এএম

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে জমি ও রাজনৈতিক বিরোধের জেরে সাবেক শ্রমিক ইউনিয়ন নেতা মানিক মিয়াকে (৪০) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। তবে অভিযুক্ত নেতা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এদিকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তির নথিতে ঘটনাটিকে “সড়ক দুর্ঘটনা” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনরা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত ১১টার দিকে গৌরীপুর পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত মানিক মিয়াকে প্রথমে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে বুধবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত মানিক মিয়া পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকার বাসিন্দা। তিনি গৌরীপুর উপজেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন এবং পেশায় পালকি গাড়ির চালক ছিলেন।

নিহতের ছোট ভাই সুখ মিয়ার দাবি, অভিযুক্ত সুয়েব মুন্সিদের পরিবারের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। এছাড়া অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তাদের পরিবারকে বিভিন্ন সময় এলাকা ছেড়ে থাকতে হয়েছে। এর আগেও সুয়েব মুন্সি তাদের পরিবারের সদস্যদের মারধর করেছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

পরিবারের অভিযোগ, মঙ্গলবার রাতে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বসে থাকা অবস্থায় সুয়েব মুন্সি ১০ থেকে ১৫ জন সহযোগীকে নিয়ে মানিক মিয়ার ওপর হামলা চালান। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে হামলাকারীরা তাকে সতিশা রোড এলাকায় নিয়ে গিয়ে তার স্ত্রী সেলিনার কাছে রেখে চলে যায়। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

নিহতের স্বজনদের আরও অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তির সময় প্রভাব খাটিয়ে ঘটনাটিকে “সড়ক দুর্ঘটনা” হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়, যাতে প্রকৃত ঘটনা ভিন্ন খাতে নেওয়া যায়।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের উপ-পরিদর্শক (এসআই) জবায়দুল হক বলেন, “স্বজনদের কাছ থেকে তিনি জেনেছেন মানিক মিয়াকে মারধর করা হয়েছিলো। তবে ভর্তির নথিতে কেন “সড়ক দুর্ঘটনা” উল্লেখ করা হয়েছে, সে বিষয়ে আমার জানা নেই।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ভর্তির নথিতে ভুল বা অসঙ্গতি থাকলে নিহতের পরিবার হাসপাতাল পরিচালকের কাছে আবেদন করতে পারে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা সম্ভব, তবে এ প্রক্রিয়ায় চার থেকে পাঁচ দিন সময় লাগতে পারে।

অভিযোগের বিষয়ে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সুয়েব মুন্সি জানান, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার বা তার সহযোগীদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তার দাবি, নিহত ও তার পরিবারের সদস্যরা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ বিরোধ থেকেই এ ঘটনা ঘটতে পারে।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সভাপতি শামসুল হক বলেন, “ঘটনার সময় তিনি ঢাকায় ছিলেন। বিষয়টি শুনেছেন, তবে বিস্তারিত না জেনে কোনো মন্তব্য করতে চান না।”

গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং নিহতের পরিবারকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ময়নাতদন্ত শেষে মানিক মিয়ার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং পরে তাকে দাফন করা হয়েছে।

   

About

Popular Links

x