কম্বোডিয়ায় উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ১৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর এক যুবককে নির্যাতনের মাধ্যমে মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত মূলহোতা সেলিম রানা (৩৫)কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
সোমবার (৬ জুলাই) রাতে র্যাব-১৪ ও র্যাব-১০-এর যৌথ অভিযানে ঢাকা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার বিকেলে র্যাব-১৪ এর সিপিসি-৩ এর কোম্পানি কমান্ডার শামসুর রহমান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
র্যাব জানায়, টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার মহিষমারা গ্রামের বাসিন্দা রাজু মিয়া (২০) এবং তার ভাতিজা রানা হামিদকে (২৫) কম্বোডিয়ায় ভালো বেতনের চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন সেলিম রানাসহ একটি চক্র। গত বছরের ৩ জানুয়ারি নজর আলীর পরিবারের কাছ থেকে নগদ ১৪ লাখ টাকা নেওয়ার পর তাদের ট্যুরিস্ট ভিসায় কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়।
কম্বোডিয়ায় পৌঁছানোর পর তারা জানতে পারেন, প্রতিশ্রুত কোনো চাকরি সেখানে নেই। বরং তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা তাদের পাসপোর্ট জব্দ করে এবং বিভিন্নভাবে শারীরিক নির্যাতন চালায়। দীর্ঘ নির্যাতনের একপর্যায়ে রাজু মিয়ার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় চলতি বছরের ৬ জুন নিহত রাজু মিয়ার বাবা নজর আলী বাদী হয়ে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানায় “মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ, ২০২৬” এর সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর থেকেই র্যাব ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সন্ধ্যায় কেরানীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে সেলিম রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব জানায়, প্রাথমিক আইনগত প্রক্রিয়া শেষে গ্রেপ্তার হওয়া সেলিম রানাকে মধুপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



