Sunday, August 02, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

আসিয়ানের সদস্য হতে পারবে না বাংলাদেশ, কারণ জানালেন মহাসচিব

এই দুই দেশের সদস্য হওয়া একপ্রকার অসম্ভব বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন আসিয়ান মহাসচিব কাও কিম হোর্ন

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫৪ পিএম

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক জোট ‘আসিয়ান’ (ASEAN)-এর সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কার্যত শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। শুধু বাংলাদেশই নয়, ওশেনিয়া অঞ্চলের দেশ পাপুয়া নিউগিনির (পিএনজি) জন্যও এই জোটে অন্তর্ভুক্তির পথ প্রায় বন্ধ। জোটে নতুন সদস্য নেওয়ার মতো কোনো বড় ধরনের আইনি পরিবর্তন না এলে এই দুই দেশের সদস্য হওয়া একপ্রকার অসম্ভব বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন আসিয়ান মহাসচিব কাও কিম হোর্ন।

ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত ১০ম আসিয়ান মিডিয়া ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় জোটের মহাসচিব জানান, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই মূলত বাংলাদেশ এবং পাপুয়া নিউগিনি আসিয়ানের সদস্য হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারছে না। ইন্দোনেশীয় সংবাদমাধ্যম জাকার্তা গ্লোব-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে সম্প্রতি এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে কাও কিম হোর্ন স্পষ্ট করে বলেন, তিমুর-লেস্তেকে অন্তর্ভুক্ত করার মধ্য দিয়েই আসিয়ানের আঞ্চলিক সম্প্রসারণপ্রক্রিয়া মূলত চূড়ান্তভাবে শেষ হয়েছে।

আসিয়ানের প্রাতিষ্ঠানিক নীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘আসিয়ান সনদ অনুযায়ী দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অবস্থিত স্বীকৃত ১১টি দেশই এই জোটের পূর্ণাঙ্গ এখতিয়ারভুক্ত। কিন্তু ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার এবং পাপুয়া নিউগিনি ওশেনিয়া অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় বিদ্যমান সনদের আলোকেই তাদের যুক্ত করার কোনো সুযোগ নেই।’’

আসিয়ান সনদের আইনি কাঠামোর অন্যতম প্রধান শর্ত হলো: নতুন কোনো দেশকে সদস্যপদ লাভ করতে হলে তাকে অবশ্যই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের স্বীকৃত ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে অবস্থিত হতে হবে। মহাসচিব জানান, যদি কখনো বাংলাদেশ বা পাপুয়া নিউগিনিকে সদস্য হিসেবে নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে, তবে আগে সমগ্র আসিয়ান সনদ সংশোধন করতে হবে। যার জন্য জোটের বর্তমান ১১টি সদস্য দেশেরই সর্বসম্মত সম্মতির প্রয়োজন পড়বে। সনদ সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান ১১ দেশই আসিয়ানের সদস্য থাকবে।

দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর গত বছর আসিয়ানের ১১তম সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্তি পায় তিমুর-লেস্তে। ২০১১ সাল থেকে সদস্য পদের জন্য চেষ্টার পর তিমুর-লেস্তের প্রেসিডেন্ট জোসে রামোস-হোর্তা রসিকতা করে একবার মন্তব্য করেছিলেন, ‘‘আসিয়ানে প্রবেশ করার চেয়ে স্বর্গে যাওয়া বুঝি অনেক সহজ!’’

উল্লেখ্য, বাংলাদেশও বেশ কয়েক বছর ধরে আসিয়ানের খাতায় নাম লেখাতে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। গত বছর মালয়েশিয়া জোটটির চেয়ারপারসনের দায়িত্বে থাকাকালীন ঢাকা আনুষ্ঠানিকভাবে কুয়ালালামপুরের জোর সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালিয়েছিল। অন্যদিকে, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো সম্প্রতি প্রকাশ্যে পাপুয়া নিউগিনির সদস্যপদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে প্রস্তাব পেশ করলেও আসিয়ানের নীতিগত জায়গায় বাংলাদেশ ও পাপুয়া নিউগিনি উভয়েই বড় ধরনের ভৌগোলিক প্রতিবন্ধকতার মুখেই রয়ে গেল।

   

About

Popular Links

x