Tuesday, August 18, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সাগরে বন্ধুর মৃত্যু, অপহরণের নাটক সাজিয়ে মুক্তিপণ আদায়

মৃত্যুর বিষয়টি পরিবারকে না জানিয়ে বাড়ি ফিরে যায় তার বন্ধুরা

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১৫ পিএম

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে গিয়ে স্রোতের টানে ডুবে মারা যায় ১৫ বছর বয়সী কিশোর সায়েদ মুনিফ আহমেদ শান। বন্ধুর মৃত্যুর বিষয়টি পরিবারকে না জানিয়ে বাড়ি ফিরে যায় তার সঙ্গে থাকা চার বন্ধু। পরে শানকে অপহরণ করা হয়েছে দাবি করে তার পরিবারের কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়।

ঘটনায় ওই চার কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার তাদের চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। গ্রেপ্তার চারজনই হালিশহরের চট্টগ্রাম মডার্ন স্কুলের শিক্ষার্থী। নিহত শান সন্দ্বীপের মগধারা এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ, পরিবার মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ আগস্ট সকাল ১১টার দিকে স্কুলের কোচিং পরীক্ষায় অংশ নিতে বাসা থেকে বের হয় শান। পরীক্ষা শেষে দুপুর ১২টার দিকে চার বন্ধুর সঙ্গে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে যায় সে। সেখানে গোসল করতে নামার পর স্রোতের টানে শান ভেসে যায় বলে পুলিশকে জানিয়েছে তার বন্ধুরা।

তবে বিষয়টি কাউকে না জানিয়ে চার বন্ধু যার যার বাড়িতে চলে যায়। সন্ধ্যার পরও শান বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। স্কুল বন্ধুদের কাছে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

পরদিন সকালে শানের বাবার মোবাইল ফোনে অজ্ঞাত নম্বর থেকে কল আসে। ফোনে জানানো হয়, শানকে অপহরণ করে আটকে রাখা হয়েছে এবং তাকে মারধর করা হচ্ছে। ছেলেকে জীবিত ফেরত পেতে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

পরে পরিবারের পক্ষ থেকে একটি বিকাশ নম্বরে ৬০ হাজার টাকা পাঠানো হলেও শানকে ছেড়ে দেওয়া হয়নি। বরং আরও টাকা দাবি করা হয়।

ঘটনায় শানের বাবা হালিশহর থানায় প্রথমে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) এবং পরে মামলা করেন। তদন্তে সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ শানের চার বন্ধুকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।

জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, ১৫ আগস্ট সবাই মিলে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে গিয়েছিল। গোসলের সময় স্রোতের টানে শান ভেসে গেলে ভয়ে তারা বিষয়টি কাউকে না জানিয়ে বাড়ি চলে যায়। তবে অপহরণের নাটক সাজিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগ তারা অস্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পরে হালিশহর থানা পুলিশ পতেঙ্গা থানায় যোগাযোগ করলে জানা যায়, ১৫ আগস্ট সমুদ্রসৈকত থেকে অজ্ঞাত এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় মরদেহটি আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছিল। পরে পরিবারের সদস্যরা পতেঙ্গা থানায় গিয়ে মরদেহটি শানের বলে শনাক্ত করেন।

হালিশহর থানার এসআই মোশাররফ হোসেন জানান, “সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে গিয়ে পানির স্রোতে শান ভেসে যায় বলে চার বন্ধু জানিয়েছে। ভয়ে তারা বিষয়টি কাউকে না জানিয়ে বাড়ি চলে যায়। পরে অপহরণের নাটক সাজিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।“

তিনি আরও জানান, শানকে হত্যা করা হয়েছে, নাকি এটি নিছক দুর্ঘটনা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। অপহরণ মামলায় চার কিশোরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

শানের বাবা মাহবুবুর রহমান জানান, ছেলে বাড়ি না ফেরায় তিনি তার বন্ধুদের ফোন করেন এবং স্কুলেও খোঁজ নেন। শান যে বন্ধুদের সঙ্গে পতেঙ্গায় যাবে, সেটিও পরিবারকে জানায়নি। তাকে হত্যা করা হয়েছে নাকি অন্য কোনো ঘটনা ঘটেছে, তা তিনি জানেন না। তবে অপহরণের কথা বলে বিকাশে মুক্তিপণ নেওয়া হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করছে এবং প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছেন তিনি।

   

About

Popular Links

x