নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়নি জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) নিবন্ধিত সাতটি রাজনৈতিক দল। সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে ১৩ দল। এ অবস্থায় দলগুলোর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে ইসি।
ইসি সূত্র থেকে জানা গেছে, সাত দলের মধ্যে তিনটি নতুন নিবন্ধিত। গত বছরের শেষ দিকে নিবন্ধন পায় এনসিপি, জনতার দল ও আমজনতার দল। অন্যদিকে ২০২৩ সালে নিবন্ধন পেয়েছিল বাংলাদেশ জাসদ, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ, তৃণমূল বিএনপি ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি।
হিসাব দিতে ব্যর্থ সাত দল ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়। নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব ইসিতে জমা দিলেও নির্ধারিত সময়ে বার্ষিক নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা দেয়নি তারা।
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে কিছুটা দেরি হয়েছিল। আমার জানা মতে, দলের সংশ্লিষ্ট নেতারা ইসিতে হিসাব পাঠিয়ে দিয়েছেন।”
আমজনতার দলের সাধারণ সম্পাদক তারেক রহমান জানান, নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতার বিষয়টি তারা জানেন। প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এর আগে, গত ৭ জুলাই ইসিতে নিবন্ধিত ৬০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে আওয়ামী লীগ ছাড়া ৫৯টি দলকে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে ২০২৫ সালের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। ৩১ জুলাই সরকারি ছুটি থাকায় পরবর্তী কার্যদিবস ২ আগস্ট পর্যন্ত সময় পায় দলগুলো। আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত আছে।
নিয়ম অনুযায়ী, পূর্ববর্তী বছরের বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে জমা দিতে হয়। আর আরপিওর ৯০(এইচ) ধারা অনুযায়ী, কোনো দল টানা তিন বছর আর্থিক প্রতিবেদন দিতে ব্যর্থ হলে তাদের নিবন্ধন বাতিল হতে পারে।
ইসি সূত্র জানায়, ৫৯টি দলের মধ্যে ৩৮টি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হিসাব জমা দিয়েছে। ১৩টি দল সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে। জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ১৩ আগস্ট হিসাব জমা দেয়। বাকি ৭টি দল হিসাব জমা দেয়নি, পাশাপাশি সময় বাড়ানোর আবেদনও করেনি।
ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “প্রতিবেদন জমা না দেওয়া দলগুলো আইন লঙ্ঘন করছে। তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে, সময় বাড়ানোর আবেদন করা ১৩টি দলকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছে ইসি।



