Tuesday, August 25, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কলকাতায় একের পর এক হোটেল বন্ধ, দেশে ফিরছেন বাংলাদেশি পর্যটকরা

অগ্নিনিরাপত্তা বিধি ও প্রয়োজনীয় অনুমোদনের ঘাটতি থাকায় হোটেলগুলো বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন 

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫৩ পিএম

কলকাতায় আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে সাত জন বাংলাদেশিসহ নয়জনের মৃত্যুর পর প্রশাসনিক অভিযানে হোটেল বন্ধে চরম বিপাকে পড়েছেন বাংলাদেশি পর্যটক ও চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীরা।  

কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকায় মির্জা গালিব স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট, মার্কুইস স্ট্রিট ও ফ্রি স্কুল স্ট্রিটে প্রশাসনিক অভিযানে একের পর এক হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকে বাধ্য হয়ে কলকাতা ছাড়ছেন। কেউ খুঁজছেন নতুন হোটেল, আবার কেউ নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ফিরে আসছেন।

মির্জা গালিব স্ট্রিটে ‘শিখা ইন’ হোটেলে মঙ্গলবার (১৮ আগষ্ট) রাত দুইটার দিকে অগ্নিকাণ্ডে সাত বাংলাদেশিসহ নয়জনের মৃত্যু হয়। ওই দুর্ঘটনার পর কলকাতা প্রশাসন বিভিন্ন হোটেল ও অতিথিশালায় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা করা শুরু করেছেন। অগ্নিনিরাপত্তা বিধি ও প্রয়োজনীয় অনুমোদনের ঘাটতি দেখতে পাওয়ায় কয়েকটি হোটেল ইতোমধ্যে বন্ধ করে দিয়েছেন প্রশাসন।

কলকাতার এসব এলাকা বাংলাদেশি পর্যটক ও চিকিৎসা নিতে যাওয়াদের অনেকটা পরিচিত এলাকা। কিন্তু শিখা ইন-এর দুর্ঘটনার পর সেই পরিচিত পরিবেশই এখন আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক বাংলাদেশি পরিবার স্বজনদের ফোন করে তাড়াতাড়ি দেশে ফিরে আসতে বলছেন।

শুধু আতঙ্ক নয়, হোটেল সংকটও নতুন সমস্যা তৈরি করেছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া হোটেল থেকে বের করে দেওয়া পর্যটকদের অনেকেই এক হোটেল থেকে আরেক হোটেলে ঘুরছেন।

নতুন করে হোটেলে সিট পাওয়া গেলেও আগের তুলনায় অনেক বেশি ভাড়া চাওয়া হচ্ছে। ফিরে আসা অনেক যাত্রীরা জানান, কিছু হোটেলের ভাড়া দেড় থেকে দ্বিগুণ বাড়িয়েছে।

ভারত ফেরত পাসপোর্টধারী যাত্রী রানা বলেন, “চিকিৎসার জন্য পরিবার পরিজন নিয়ে ১৬ আগস্ট ভারতে গিয়েছিলাম। কলকাতার বড় বাজার এলাকার একটি হোটেলে ছিলাম। ১৮ আগষ্ট শিখা ইন হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর থেকে কলকাতার আবাসিক হোটেলগুলোতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থায় ত্রুটি থাকায় বন্ধ করে দিচ্ছে। আমরাও যে হোটেলে ছিলাম পুলিশ সেটাও বন্ধ করে দিয়েছে। এ সুযোগে অন্য হোটেলগুলো সিটভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে। নিরাপত্তা এবং অর্থ সংকটের কারনে আগে থেকে দেশে চলে আসলাম।”

কলকাতার পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন। এই এলাকায় বাংলাদেশি পর্যটকদের কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে আবাসিক হোটেল, খাবারের হোটেল, পরিবহণ, কেনাকাটা ও বিভিন্ন পরিষেবার ব্যবসা। করোনাকালীন থেকে শুরু করে কয়েক বছরে নানা কারণে এই ব্যবসায় মন্দাভাব দেখা দিয়েছে।

পর্যটক ভিসা চালু হওয়ায় যাত্রীর সংখ্যা কিছুটা বাড়তে শুরু করার সময় নতুন করে হোটেল বন্ধের ঘটনা ব্যবসায়ীদের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদিকে প্রশাসন বলছে, পর্যটকদের নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। অগ্নিনিরাপত্তা বিধি না মানা হোটেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস হোসেন খান জানান, গত কয়েকদিনের হিসাব দেখে বোঝা যাচ্ছে, আগের চেয়ে যাত্রী ফেরার সংখা কিছুটা বেশী। তবে কি জন্য এ সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে সঠিক তথ্য তাদের কাছে নেই। দুই দেশের মধ্যে যাত্রী যাতায়াত স্বাভাবিক রয়েছে।  

   

About

Popular Links

x