বগুড়ার শেরপুরে ডিগ্রি ও চিকিৎসা সনদ ছাড়া চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সুনীল কুমার বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তিকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, “ডিগ্রি ও সনদ ছাড়া চিকিৎসাসেবা দেওয়া এবং রোগীদের ব্যবস্থাপত্র প্রদান করা সম্পূর্ণ বেআইনি। আসামিকে শেরপুর থানায় সোপর্দ ও আদালতের মাধ্যমে তাকে বগুড়া জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।“
এর আগে, বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় শেরপুর পৌরসভার সান্যালপাড়ার ওই ব্যক্তির চেম্বারে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সুনীল কুমার বিশ্বাস প্রায় ২০ বছর ধরে বগুড়ার শেরপুরের সান্যালপাড়ায় চিকিৎসক পরিচয়ে চেম্বার খুলে নানা ধরনের চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছেন। তার স্বীকৃত চিকিৎসা ডিগ্রি বা সনদ নেই। তার বিরুদ্ধে অপচিকিৎসা, ব্যবস্থাপত্র দেওয়া, নিষিদ্ধ ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ এবং বিভিন্ন ধরনের শল্যচিকিৎসা করার অভিযোগ রয়েছে।
মাঝে মাঝে ভুল চিকিৎসা দেওয়া নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে তার বাগ্ বিতণ্ডা হয়। গত ২৪ আগস্ট সুনীল কুমার বিশ্বাস ১২,০০০ টাকা ফি নিয়ে এক শিশুর গোপনাঙ্গে অস্ত্রোপচার করেন। অযথা কাটাছেঁড়া করায় শিশুর অবস্থায় আশঙ্কাজনক হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। তখন শিশুকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিষয়টি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হলে শেরপুর উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইদুজ্জামান হিমুর ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে সুনীল কুমার বিশ্বাসকে আটক করেন। ডিগ্রি ও চিকিৎসা সনদ না থাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০ অনুযায়ী তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা ও সাতদিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। এ সময় আটক ব্যক্তির চেম্বার থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিষিদ্ধ ওষুধসহ বিভিন্ন অস্ত্রোপচার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতে প্রসিকিউটরের দায়িত্ব পালন করেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমিরুল ইসলাম। অভিযানে শেরপুর থানা পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।



