Thursday, September 03, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু নয়, নিজেদের বাংলাদেশি ভাবতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সকল নাগরিকের গর্বিত পরিচয়-আমরা সকলে বাংলাদেশি’

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৭ পিএম

সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু হিসেবে নয়, দেশের সব নাগরিককে নিজেদের বাংলাদেশি হিসেবে ভাবার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং পুরোহিত ও সেবাইতদের মধ্যে সম্মানি বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেছেন, “রাষ্ট্র ও সমাজে দল, মত, ধর্ম ও বর্ণের পরিচয় যেন মানুষের মধ্যে বিভেদ ও বৈষম্য সৃষ্টির কারণ না হয়। এ উপলব্ধি থেকেই দেশের সব নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ রাখতে স্বাধীনতার ঘোষকের যুগান্তকারী রাজনৈতিক দর্শন ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ।”

তারেক রহমান বলেন, “বর্তমান গ্লোবাল ভিলেজে সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু-এসব পরিচয় কোনো মুখ্য বিষয় নয়। অতএব, সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু নয়, আসুন আমরা সবাই নিজেদের বাংলাদেশি ভাবি।”

তিনি বলেন, “একটি রাষ্ট্র ও সমাজে বিভিন্ন ধর্ম ও মতের মানুষের সম্মেলনই বৈচিত্র্যময় সমাজের সৌন্দর্য। কেউ যদি কাউকে সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু হিসেবে বিবেচনা করেন, তাহলে ইউরোপ বা আমেরিকা সফরের কথা মনে রাখা উচিত। ইউরোপ-আমেরিকা সফরে গেলে আমরা সবাই কিন্তু সেখানে সংখ্যালঘু!”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের সকল নাগরিকের গর্বিত পরিচয়-আমরা সকলে বাংলাদেশি।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশে আবহমানকাল থেকে দল, মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষ একে অপরের সঙ্গে মিলেমিশে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রেখে নিজ নিজ ধর্ম ও সংস্কৃতি পালন করে আসছে। তবে মাঝেমধ্যে কংস চরিত্রের মানুষেরা রাষ্ট্র ও সমাজে বিভেদ ও বিরোধ সৃষ্টি করে তা জিইয়ে রাখার অপচেষ্টা চালিয়েছে।”

“সমাজবিরোধী অপশক্তি যাতে আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে এবং কেউ যাতে বিরাজমান সম্প্রীতির পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে, সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “সমাজে পারস্পরিক সৌহার্দ্য এবং সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রাখা নাগরিক হিসেবে আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব।”

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে ধর্মীয় সম্প্রীতি, সহনশীলতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, “দেশকে অস্থিতিশীল করতে কেউ কেউ নানাভাবে গুজব ছড়াচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আশ্রয় নিয়ে কেউ কেউ মানুষকে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে।” দেশে কোনো ধরনের বিদ্বেষ যাতে সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টির কারণ না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা আগেও বলেছি, সবসময় বলি এবং সবসময় বলবো-প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা বিধানে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশে আবারও গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে। ভঙ্গুর অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন এবং অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার উন্নতি ঘটিয়ে এবার দেশ পুনর্গঠনের পালা।”

   

About

Popular Links

x