Tuesday, September 01, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে যা জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য এখনো কোনো তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১০ পিএম

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, “উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফর করবেন, তবে এই দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য এখনো কোনো তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।“

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “তারিখ নির্ধারণ না হলেও উপযুক্ত সময়ে সফরটি অবশ্যই হবে।“ তিনি জানান, পারস্পরিক সম্মান ও জাতীয় স্বার্থের পাশাপাশি দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সময়সূচি ও সুবিধা বিবেচনা করেই সফরের সময় ঠিক করা হবে।

আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের (ইউএনজিএ) আগে সফরটি হতে পারে কি না এমন প্রশ্নের জবাবেও তিনি জানান, নির্দিষ্ট কোনো তারিখ এখনো ঠিক হয়নি। তবে সফর নিয়ে ঢাকা-নয়াদিল্লির আলোচনা থেমে গেছে এমন ধারণা নাকচ করে তিনি বলেন, “তারিখ চূড়ান্ত না হলেও দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলমান রয়েছে।“

হুমায়ুন কবির উল্লেখ করেন, গত ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নয়াদিল্লি থেকে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ায় বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে, এবং এ বিষয়ে ঢাকা তার অবস্থান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে। তিনি জানান, ওই অনুষ্ঠানের পর বাংলাদেশ তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল, যদিও ভারত সরকার জানিয়েছিল অনুষ্ঠানটি একটি বেসরকারি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান আয়োজন করেছিল এবং এতে সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এই ঘটনা দুই দেশের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ার প্রচেষ্টায় সহায়ক নয় বলে মনে করে ঢাকা। তবে এখন আবার আলোচনা চলছে।“

এই প্রেক্ষাপটে, নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বক্তাদের অংশগ্রহণে গত ২৯ আগস্ট নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় একটি আন্তর্জাতিক সেমিনার বাতিল করা হয়, দিল্লি পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় এমনটাই জানিয়েছিলেন আয়োজকরা। এ বিষয়ে হুমায়ুন কবির একে ভারতের একটি “ইতিবাচক পদক্ষেপ” হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, “দুই দেশের কেউই যেন অন্য দেশে সন্ত্রাসবাদ বা গুরুতর অপরাধে অভিযুক্তদের আশ্রয় বা কর্মকাণ্ডের সুযোগ না দেয় এটাই ঢাকার প্রত্যাশা।“ তিনি বলেন, “বাংলাদেশ যেমন ভারত থেকে পালিয়ে আসা কোনো সন্ত্রাসীকে আশ্রয় দেবে না, তেমনি প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ থেকে পালানো কাউকে ভারতও আশ্রয় দেবে না।“

তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের পদক্ষেপ দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ মনোভাব সৃষ্টিতে সহায়ক হতে পারে এবং এই প্রবণতা অব্যাহত থাকবে আশা প্রকাশ করি।“

প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভারত সফর নিয়ে তাড়াহুড়ো না করে শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের আগে পর্যাপ্ত কূটনৈতিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পক্ষে ধারাবাহিকভাবে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন প্রতিমন্ত্রী। গণমাধ্যমকে দেওয়া গত মাসের এক সাক্ষাৎকারেও তিনি বলেছিলেন, “পারস্পরিক আস্থা-বিশ্বাস, সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান, কূটনৈতিক সংলাপ এবং মর্যাদাপূর্ণ আমন্ত্রণের ভিত্তিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলেই প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হতে পারে।“

   

About

Popular Links

x