Friday, September 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

র‍্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠন নিয়ে তর্ক-বিতর্ক

স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন গঠনের লক্ষ্যে সংসদে বিল উত্থাপন করা হয়েছে

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২২ এএম

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গঠনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে বিল উত্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) পুলিশের জন্য নতুন আইন এবং ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের বিতর্কিত ১৮(ক) ধারা বিলুপ্ত করতে পৃথক বিল আনা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সংসদের বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করেন। বিলটি উত্থাপনের সময় আপত্তি জানান বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। নতুন এলিট ফোর্স গঠনের আগে সংসদে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার দাবি জানান তিনি।

বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানও বিলটি নিয়ে আরও আলোচনা ও চিন্তাভাবনার আহ্বান জানান। এ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিতর্ক হয়। পরে বিলটি সংসদে উত্থাপন করা হয় এবং পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

বিলের বিরোধিতা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‌‌‘‘র‍্যাব ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও ‘আয়নাঘর’সহ বিভিন্ন অভিযোগে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্কিত হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের আগে র‍্যাব বিলুপ্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বিএনপিও এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু র‍্যাবের মতো নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান গঠনের কথা বলা হয়নি।’’

তার অভিযোগ, এখন নতুন নামে র‍্যাবকে পুনর্গঠন করা হচ্ছে। নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘‘ফ্যাসিবাদের চিহ্ন হচ্ছে র‍্যাব।’’

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘‘পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে বলে কি পুলিশ বাহিনীও বিলুপ্ত করে দিতে হবে?’’ তিনি বলেন, ‘‘নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী র‍্যাব নামে কোনো সংগঠন থাকবে না এবং সেটি বিলুপ্ত করা হচ্ছে। তবে পুলিশের একটি বিশেষায়িত ইউনিট প্রয়োজন।’’

বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, ‘‘তারা র‍্যাব বিলুপ্তির প্রস্তাবকে সমর্থন করেন। তবে নতুন কোনো সংস্থা গঠনের বিষয়ে আরও চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।’’

প্রস্তাবিত আইনে র‍্যাবের জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, বিদ্যমান সুবিধা, তহবিল, নগদ ও ব্যাংকে থাকা অর্থ, দায়, চুক্তি, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, রেজিস্টার, রেকর্ডপত্রসহ সব দলিল এসআরবির কাছে স্থানান্তরের কথা বলা হয়েছে।

নতুন আইনের বিধিমালা না হওয়া পর্যন্ত ২০০৫ সালের বিদ্যমান বিধিমালা অনুযায়ী র‍্যাব-সংক্রান্ত বিভাগীয় শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা বা আদালতের কার্যক্রমও বহাল থাকবে বলে বিলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিলে পুলিশ বাহিনীর আওতায় এসআরবি নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ, শৃঙ্খলা বাহিনী এবং নির্ধারিতসংখ্যক কর্মকর্তা ও সদস্যকে পদায়ন বা প্রেষণে নিয়োগের মাধ্যমে এ ইউনিট গঠিত হবে। ইউনিটের মহাপরিচালক হিসেবে একজন অন্যূন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে নিয়োগের বিধান রাখা হয়েছে।

এদিকে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নস অর্ডিন্যান্স রহিত করে নতুন আইন প্রণয়নের জন্য ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

বিলের কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সময়ের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় ও জননিরাপত্তার চাহিদা এবং অপরাধের ধরন ও প্রকৃতিতে পরিবর্তন এসেছে। এসব পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এপিবিএনের সাংগঠনিক কাঠামো, দায়িত্ব, কার্যাবলি, ক্ষমতা ও জবাবদিহির বিধান আরও স্পষ্ট ও কার্যকরভাবে নির্ধারণের প্রয়োজন হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনে পুলিশ বাহিনীর অধীনে এপিবিএন গঠিত ও পরিচালিত হবে। এর আওতায় স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রটেকশন ব্যাটালিয়ন, পার্বত্য ব্যাটালিয়ন, বিমানবন্দর ব্যাটালিয়নসহ অন্যান্য ব্যাটালিয়ন অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

নতুন আইনে এপিবিএনকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধি ও অন্যান্য প্রচলিত আইন অনুসরণ করে কোনো স্থানে প্রবেশ, তল্লাশি, জব্দ এবং গ্রেপ্তারের ক্ষমতাও থাকবে এ ইউনিটের।

এ ছাড়া এপিবিএনের সদস্যদের জন্য শৃঙ্খলা ও আচরণবিধির বিধান রাখা হয়েছে। কোনো সদস্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ইলেকট্রনিক মিডিয়া বা সংবাদপত্রে কোনো তথ্য বা দলিল প্রকাশ করতে পারবেন না।

   

About

Popular Links

x