Friday, September 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

তীব্র লোডশেডিংয়ে নাকাল, ক্ষোভের মুখে বিদ্যুৎকর্মীরা

কর্মীদের দাবি, বিদ্যুৎ উৎপাদন বা লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত তাদের হাতে নেই

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৫ এএম

তীব্র লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন বরিশাল নগরবাসী। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে গ্রাহকদের ক্ষোভের মুখে পড়ছেন মাঠপর্যায়ের বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা। বাড়ি বাড়ি মিটার রিডিং নিতে কিংবা বিদ্যুৎ সংযোগ মেরামতের কাজে গেলেও অনেক সময় তাদের তোপের মুখে পড়তে হচ্ছে। জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করেও ক্ষোভ জানাচ্ছেন গ্রাহকেরা।

এ পরিস্থিতিতে আতঙ্ক নিয়েই মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা। তবে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের দাবি, বিদ্যুৎ উৎপাদন বা লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত তাদের হাতে নেই।

নগরবাসীর অভিযোগ, দিনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকায় এক ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। এতে প্রচণ্ড গরমে জনজীবন যেমন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে, তেমনি ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও চিকিৎসাসেবা।

নথুল্লাবাদ এলাকার এক বাসিন্দা জানান, দিনে কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে ঘরে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎকর্মীরা এলাকায় এলে মানুষ তাদের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। তবে দ্রুত সমস্যার সমাধান চান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিদ্যুৎকর্মী বলেন, লোডশেডিং হলেই গ্রাহকদের ক্ষোভ তাদের ওপর এসে পড়ে। মিটার রিডিং নিতে কিংবা সংযোগের কাজে গেলে অনেক সময় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। কেউ কেউ উত্তেজিত আচরণও করেন। অথচ বিদ্যুৎ উৎপাদন কিংবা লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত মাঠপর্যায়ের কর্মীদের হাতে নেই।

লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে বরিশালের সরকারি হাসপাতালগুলোতেও। বিদ্যুৎ চলে গেলে ব্যাহত হচ্ছে শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতাল ও বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা।

দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র এক হাজার শয্যার শেবাচিম হাসপাতালে প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে বলে জানা গেছে। নতুন ভবনে বিদ্যুৎ চলে গেলে লিফট, ফ্যান ও বাতি বন্ধ হয়ে যায়। জেনারেটর থাকলেও পর্যাপ্ত জ্বালানি না থাকায় সেটি সার্বক্ষণিক চালানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে অস্ত্রোপচারসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।

শেবাচিম হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. নাজমুল হোসেন জানান, নতুন ভবনের জন্য আরও একটি বিদ্যুৎ সংযোগ এবং জেনারেটর চালানোর জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

প্রায় একই পরিস্থিতি ১০০ শয্যার বরিশাল জেনারেল হাসপাতালেও। হাসপাতালের একমাত্র জেনারেটরটি দীর্ঘদিন ধরে বিকল থাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে রোগীদের ভরসা হাতপাখা। রাতে অন্ধকার দূর করতে মোমবাতিও ব্যবহার করতে হয়।

ওজোপাডিকো বরিশালের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুল কুমার স্বর্ণকার জানান, অভিযোগ এলে গ্রাহকদের বিভিন্নভাবে বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা কাজ করছেন।

   

About

Popular Links

x