Sunday, September 06, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

এক্সপ্রেসওয়েতে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করলো পুলিশ

এ ঘটনায় একটি বাসের চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১২ পিএম

রাজধানীর বনানী এলাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে ইসমাইল হোসেন (৫০) নামের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। জমিও বিক্রির লাখ টাকা হাতিয়ে নিতেই চলন্ত বাসে শ্বাসরোধে তাঁকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এ ঘটনায় 'রাজ ক্লাসিক' নামের একটি পরিপরিবহন বাসের চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন, বাসচালক সোহেল রানা (৪১), সুপারভাইজার সাজু ওরফে লিমন (২৬) এবং হেলপার মো. মনির হোসেন (১৯)।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে বনানী থানার স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় এয়ারপোর্টগামী এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর থেকে মুখ ও দুই হাত স্কচটেপে পেঁচানো অবস্থায় অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে আঙুলের ছাপ বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। নিহত ইসমাইল হোসেন জামালপুর জেলার বাসিন্দা। জমিও বিক্রির নগদ ৫ লাখ টাকা সাথে নিয়ে তিনি গাজীপুরের কাশিমপুরে ছেলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে বনানী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

যুগ্ম পুলিশ কমিশনার ফারুক হোসেন জানান, মামলার পর বনানী থানা পুলিশ ও অপরাধ বিভাগ তদন্তে নেমে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং আশপাশের একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে। ফুটেজে ‘রাজ ক্লাসিক’ নামের একটি বাসের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে অভিযান চালিয়ে মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসটি জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে জামালপুরসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত বাসের চালক, সুপারভাইজার ও সহকারীকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, গত ৪ সেপ্টেম্বর ভোরে জামালপুরের দিগপাইত বাসস্ট্যান্ড থেকে যাত্রী হিসেবে বাসে ওঠেন ইসমাইল। ভাড়া পরিশোধের সময় লুঙ্গির ভাঁজ থেকে টাকা বের করার সময় তার কোমরে থাকা জমি বিক্রির বড় অঙ্কের টাকার বান্ডিল দেখে ফেলেন বাসের সুপারভাইজার সাজু। লোভ সামলাতে না পেরে সাজু বাসচালক সোহেল রানাকে বিষয়টি জানান এবং দুজনে মিলে টাকা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ইসমাইলকে তার নির্দিষ্ট গন্তব্য গাজীপুরের চান্দুরায় না নামিয়ে বাসের অন্যান্য যাত্রীদের বিভিন্ন স্থানে নামিয়ে দেওয়া হয়। বাস খালি হওয়ার পর অভিযুক্তরা চলন্ত বাসেই ইসমাইলের মুখ ও হাত স্কচটেপ দিয়ে শক্ত করে বেঁধে ফেলেন এবং গামছা পেঁচিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন। পরে টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে বাসটি বিমানবন্দর থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে তুলে বনানী অংশে ইউটার্ন নেওয়ার সময় ইসমাইলের মৃতদেহ এক্সপ্রেসওয়ের ওপর ফেলে পালিয়ে যান তারা।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি চলছে।

   

About

Popular Links

x