Wednesday, September 09, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

গ্যাস সংকট মোকাবিলায় নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা

এ লক্ষ্যে ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫২ পিএম

শিল্প খাতে আকস্মিক গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন যাতে ব্যাহত না হয়, সে লক্ষ্যে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন ও গ্যাস অনুসন্ধানে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য সুলতানা আহমেদের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, “সাময়িক বা আকস্মিক গ্যাস সংকটের প্রভাব থেকে শিল্প খাতকে সুরক্ষা দিতে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণ ও নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে কাজ করছে সরকার।”

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খনন করা হবে। একই সময়ের মধ্যে ৪,৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি সিসমিক সার্ভে এবং ৪,২০০ বর্গকিলোমিটার ৩ডি সিসমিক সার্ভে পরিচালনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সমুদ্রাঞ্চলের ২৬টি ব্লকে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের জন্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নিয়োগে গত ২৪ মে আন্তর্জাতিক বিডিং রাউন্ড শুরু করা হয়েছে। আগামী নভেম্বর পর্যন্ত এ প্রক্রিয়ায় বিড জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

এছাড়া স্থলভাগে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য ‘বাংলাদেশ অনশোর মডেল পিএসসি-২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দেশে বর্তমানে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল রয়েছে। এসব টার্মিনালের মাধ্যমে দৈনিক গড়ে প্রায় ৯৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

ভবিষ্যতে শিল্প খাতে হঠাৎ গ্যাস সংকট দেখা দিলে তা মোকাবিলায় মহেশখালীর কুতুবজোমে নতুন একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ীতে একটি স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কাজ চলছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কুতুবজোমের নতুন ভাসমান টার্মিনাল থেকে ২০২৮ সালে গ্যাস সরবরাহ শুরু হতে পারে। আর মাতারবাড়ীর স্থলভিত্তিক টার্মিনাল থেকে ২০৩০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে রি-গ্যাসিফাইড এলএনজি সরবরাহের লক্ষ্য রয়েছে।

এর বাইরে পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা কিংবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সমুদ্র উপকূলের উপযুক্ত কোনো স্থানে আরও একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। এটি বাস্তবায়ন হলে জরুরি পরিস্থিতিতে গ্যাস সরবরাহের অতিরিক্ত সক্ষমতা তৈরি হবে বলে মনে করছে সরকার।

ভোলার গ্যাস স্থানীয়ভাবে ব্যবহারের উদ্যোগ

ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্যাস নেটওয়ার্কে যুক্ত করার বিষয়ে তিনি বলেন, “পাইপলাইনের মাধ্যমে ভোলার গ্যাস দেশের মূল গ্যাস নেটওয়ার্কে যুক্ত করতে অন্তত সাত বছর সময় লাগতে পারে।”

এ কারণে দীর্ঘ পাইপলাইন স্থাপনের অপেক্ষায় না থেকে ভোলার গ্যাস স্থানীয়ভাবে ব্যবহার করে সেখানে শিল্পকারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে গ্যাসনির্ভর কিছু শিল্প স্থাপনের উদ্যোগও চলছে বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভোলার গ্যাস কাজে লাগিয়ে সেখানে একটি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।”

এছাড়া ভোলার গ্যাস এলএনজি আকারে মূল ভূখণ্ডে এনে আগ্রহী শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা যায় কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। গ্যাসপ্রাপ্তি সাপেক্ষে অর্থনৈতিক অঞ্চল, ইপিজেড ও বিসিক শিল্পাঞ্চলে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারের এসব উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো, আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং শিল্প ও রপ্তানি খাতে উৎপাদন কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখা। একইসঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্যাস অনুসন্ধান, উৎপাদন ও অবকাঠামো উন্নয়নে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

   

About

Popular Links

x