দেশে লোডশেডিং বাড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভারতের ঝাড়খণ্ডের আদানি পাওয়ারের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের একটি কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে গেছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টায় ৭৩৪, ৯টায় ৭৩৭, ১০টায় ৭২৪ ও সকাল ১১টায় ৭৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আদানি পাওয়ার।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে হঠাৎ করে কারিগরি ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। কয়লা স্বল্পতার কারণে গত এক মাস ধরে সীমিত বিদ্যুৎ উৎপাদন করছিল আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি এসব তথ্য জানিয়েছে।
এর আগে, ৯ সেপ্টেম্বর রাতে এক পর্যায়ে সরবরাহ ১,৪০০ মেগাওয়াটের বেশি হলেও রাত ১২টার পর একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে উৎপাদন ৭৩২ মেগাওয়াটে নেমে আসে। ১০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টায় আদানি থেকে পাওয়া গেছে ৭৩২ মেগাওয়াট।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্রের বয়লারে সমস্যা হয়েছে। এটি শীতল হতে ৪৮ ঘণ্টা লাগতে পারে। এরপর ত্রুটি মেরামতের কাজ শুরু হবে। ফলে উৎপাদন বাড়তে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
কর্মকর্তারা আরও জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পিক আওয়ারে লোডশেডিং ২,৫০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছিল এবং আদানির ইউনিটটি বন্ধ হওয়ার ফলে শুক্রবার তা আরও বাড়তে পারে।
জানা গেছে, পিডিবির গ্যাসভিত্তিক প্ল্যান্ট থেকে প্রায় ৫,০০০ মেগাওয়াট, কয়লা থেকে ৪,৫০০ মেগাওয়াট এবং তরল জ্বালানি থেকে ২,০০০ থেকে ৩,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। ফলে ১৬,০০০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সামগ্রিক উৎপাদন ১৩,০০০ থেকে ১৪,০০০ মেগাওয়াটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় সরবরাহের বড় ধরনের ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।
এর ফলে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের বন্ধ থাকা ইউনিটটি পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডের ওপর বাড়তি চাপ অব্যাহত থাকবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ভারতের ঝাড়খণ্ডের আদানি পাওয়ারের কেন্দ্রটির সক্ষমতা ১,৬০০ মেগাওয়াট। কয়লা সরবরাহে সমস্যা হওয়ায় ৭ আগস্ট থেকে কেন্দ্রটি উৎপাদন কমিয়েছে।
২০১৭ সালে আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি করে পিডিবি। ঝাড়খণ্ডের আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে।



