চট্টগ্রামের রাউজানে মোটরসাইকেল চোর সন্দেহে মোহাম্মদ করিম (৩৬) নামে যুবককে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার করা হয়। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তারের পর এমন তথ্য পেয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার চারজন হলেন—রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের মো. সেলিম (৫০), সৈয়দ মোহাম্মদ শুক্কুর (২৭), মো. জাবেদ (২৮) ও মো. আলামিন (২৯)।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় এলজি, এয়ার গান, ১২ বোরের কার্তুজ ও রক্তমাখা চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে এ ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে সন্দেহভাজন পারভেজ নামে এক ব্যক্তিসহ আরও কয়েকজন এখনও পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের কেরানিহাট এলাকায় প্রকাশ্যে মোহাম্মদ করিমকে হত্যা করা হয়। সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে আসা একদল সন্ত্রাসী তাকে ঘিরে ধরে প্রথমে গুলি করে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথা ও ঘাড়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।
এ ঘটনায় পরদিন নিহতের স্ত্রী বিলকিস আক্তার বাদী হয়ে রাউজান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১০ দিন আগে পারভেজের মামা আজগরের একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। ওই চুরির ঘটনায় পারভেজ করিমকে সন্দেহ করেন। মোটরসাইকেলটি ফেরত দেওয়ার জন্য করিমকে চাপ দেওয়া হলেও তিনি চুরির সঙ্গে জড়িত নন বলে জানান। এতে পারভেজ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
ঘটনার দিন সন্ধ্যায় পারভেজ কৌশলে করিমকে রাউজানের কেরানিহাট বাজার এলাকায় ডেকে আনেন। সেখানে পারভেজসহ অন্য আসামিরা করিমকে প্রথমে গুলি করেন। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
পুলিশ সুপার জানান, নগরের চাঁদগাঁও থানার কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকা থেকে সৈয়দ মোহাম্মদ শুক্কুর (২৭) ও মো. জাবেদকে (২৮) গ্রেপ্তার করা হয়।
তারা জানান, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও কার্তুজ রাউজান থানার পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের মগদাই এলাকায় পারভেজের পরিত্যক্ত গরুর খামারে লুকিয়ে রাখা হয়েছে।
পরে গ্রেপ্তার শুক্কুর ও জাবেদকে সঙ্গে নিয়ে রবিবার রাত ১২টা ৫ মিনিটে ওই গরুর খামারে অভিযান চালায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এ সময় তাদের দেখানো মতে, খামারের ভেতরে সিমেন্টের তৈরি গামলার মধ্যে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এরপর হাটহাজারী থানার দক্ষিণ মাদার্শা এলাকা থেকে মো. সেলিম (৫০) ও মো. আলামিনকে (২৯) গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার চারজনের মধ্যে সেলিমের বিরুদ্ধে একটি চুরির মামলা, জাবেদের বিরুদ্ধে একটি অপহরণ মামলা এবং আলামিনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে দুটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত মোহাম্মদ করিম রাউজানের উরকিরচর ইউনিয়নের হারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তবে তিনি নগরের আমান বাজার এলাকায় বসবাস করতেন। তার বিরুদ্ধে চুরি, মাদক, ডাকাতি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১০টি মামলা রয়েছে।



