Saturday, September 19, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

অপ্রতিমের মরদেহ যেভাবে খুঁজে পাওয়া গেলো

লাইমাই পাহাড়ের পাদদেশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৫ পিএম

কুমিল্লায় বাসা থেকে বের হওয়ার পর হত্যার শিকার স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে (১৩) একজন ছেলের সঙ্গে বিভিন্ন সড়কে চলাচল করতে দেখা গেছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে স্বজনরা এমন দৃশ্য দেখতে পেয়েছেন। সেই ভিডিও অনুসরণ করেই অপ্রতিম কোন পথে গিয়েছিল, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছিলেন তারা।

বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে। শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানাধীন ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর সে নিখোঁজ হয়। এরপর আর বাসায় ফেরেনি।

পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও অপ্রতিমকে না পেয়ে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসংলগ্ন সালমানপুর এলাকার দক্ষিণ মোড়ে লাইমাই পাহাড়ের পাদদেশ থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

অপ্রতিমের মায়ের সহকর্মী ও প্রতিবেশী কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক মাহমুদ হাসান সকাল থেকেই সংশ্লিষ্ট এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করছিলেন। পরে অপ্রতিমকে খুঁজতে খুঁজতে তারা মরদেহ উদ্ধারের স্থানটির কাছাকাছি পৌঁছান।

ঘটনাস্থলের পাশে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের অধ্যাপক মাহমুদ হাসান বলেন, অপ্রতিম তাদের পাশাপাশি বাসায় থাকত এবং খুবই প্রাণবন্ত ছেলে ছিল। একটি ছোট শিশুকে কোনো কিছুর জন্য হত্যা করা হতে পারে, এটি তারা চিন্তাও করতে পারেননি।

তিনি বলেন, সকাল থেকে তারা বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অপ্রতিমকে খুঁজছিলেন। একপর্যায়ে একজন ছেলেকে অপ্রতিমের সঙ্গে বিভিন্ন রাস্তা দিয়ে যেতে দেখা যায়। এভাবে খুঁজতে খুঁজতে তারা ঘটনাস্থলের কাছাকাছি আসেন। পরে স্থানীয় এক ব্যক্তি সেখানে একটি শিশুর মরদেহ পড়ে থাকার কথা জানালে তারা ছুটে গিয়ে মরদেহ দেখতে পান।

এদিকে শনিবার বিকেলে কুমিল্লার জেলা পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, এ ঘটনায় একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তে কিছু ‘ক্লু’ পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।

অপ্রতিমের কাছে থাকা তার মায়ের আইফোনটিও পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। তাদের প্রাথমিক ধারণা, আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ এবং ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

   

About

Popular Links

x