ঢাকার আশুলিয়ায় প্রীতি গ্রুপের কারখানা প্রাঙ্গণে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী লরিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে আটজন নিহতের ঘটনায় ছয়জনকে আসামি করে অবহেলাজনিত হত্যার মামলা করেছে পুলিশ। তবে মামলার এজাহারে কারখানার মালিকপক্ষের কাউকে আসামি করা হয়নি। বেতনভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরই মামলায় আসামি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) আশুলিয়া থানার জামগড়া পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবু তালেব বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অপরিকল্পিতভাবে বিপজ্জনক অবস্থায় এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলার অভিযোগে ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন প্রীতি গ্রুপের জিএম মো. সোহেল রানা, এজিএম মো. মহিউদ্দিন, ম্যানেজার মো. মোজাম্মেল হোসেন, কারখানার ইঞ্জিনিয়ার মো. রাজীব হোসেন এবং দুই হেলপার মো. আল আমিন ও মো. এনামুল। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রীতি গ্রুপের সিইও পদে রয়েছেন রাজীব আহমেদ তালুকদার পিয়াল। তিনি কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহ-সম্পাদক ও বাকেরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন এবং সর্বশেষ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার মা পারভীন তালুকদার প্রীতি গ্রুপের পরিচালক। তিনি সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। কারখানাটির এমডি হিসেবে রয়েছেন রেজিন আহমেদ তালুকদার।
তবে বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মালিকপক্ষের কারও নাম নেই।
এ বিষয়ে প্রীতি গ্রুপের এমডি রেজিন আহমেদ তালুকদারের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিটির সভাপতি মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, “কোনো কারখানায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে এর দায় শুধু বেতনভুক্ত কর্মচারীদের ওপর চাপানো যৌক্তিক নয়। যানবাহনের দুর্ঘটনায় যেমন মালিকের দায় বিবেচনায় আসে, তেমনি কারখানার অগ্নিকাণ্ড বা নিরাপত্তাজনিত গাফিলতির ক্ষেত্রেও মালিকপক্ষের দায় খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের আইনের আওতায় আনা উচিত।“
তবে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে যাদের সরাসরি দায়িত্বে অবহেলার তথ্য পাওয়া গেছে, আপাতত এজাহারে তাদের নামই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।“ মালিকপক্ষের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে পুলিশের কাছে কোনো তথ্য নেই বলেও জানান তিনি।
ওসি বলেন, “মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি রাখা হয়েছে। তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তে যাদের গাফিলতি বা সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।“
প্রসঙ্গত, রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় আশুলিয়ার জামগড়ায় প্রীতি গ্রুপের “এস সূহী ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক” এর প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে থাকা গ্যাস সিলিন্ডারবাহী একটি লরিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে আটজন নিহত এবং অন্তত ২৫ থেকে ৩০ জন দগ্ধ ও আহত হন।



