সম্প্রতি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে এক বছরের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
গত ৯ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য শপথ নেন খলিলুর রহমান। জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ৯৯টি ভোট পেয়ে তিনি সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন।
তার দলে আইন কর্মকর্তা (লিগ্যাল অফিসার) হিসেবে কাজ করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কন্যা জাইমা রহমান।
লিগ্যাল অফিসারের কাজ কী?
সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ের ওয়েবসাইটের তথ্যের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, এই পদে থাকা ব্যক্তি জাতিসংঘের মূল আইন বিভাগের কর্মকর্তা নন। তিনি মূলত সাধারণ পরিষদের সভাপতির সরাসরি আইনি পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করেন।
সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিন, ইউক্রেনের মতো বিভিন্ন স্পর্শকাতর ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
এসব বিষয়ে সভাপতি যেন তার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিরপেক্ষ থাকতে পারেন এবং তার সিদ্ধান্ত যেন জাতিসংঘের নিয়ম ও প্রতিষ্ঠিত নজিরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তা নিশ্চিত করতে লিগ্যাল অফিসার আইনি পরামর্শ দেন।
জাতিসংঘ সনদের সংশ্লিষ্ট ধারা, সাধারণ পরিষদের কার্যপ্রণালির নিয়ম এবং অতীতের নজির পর্যালোচনা করে লিগ্যাল অফিসার সভাপতিকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন।
সাবেক রাষ্ট্রদূত ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, কোনো রেজুলেশন কীভাবে উত্থাপন করা হবে, কোনো দেশ ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’ তুললে সভাপতি কী ধরনের রুলিং দেবেন, কিংবা কোনো প্রস্তাবের সংশোধনী গ্রহণযোগ্য কি না-এসব বিষয়েও লিগ্যাল অফিসার সভাপতিকে আইনি পরামর্শ দেন।
এছাড়া সাধারণ পরিষদে উত্থাপিত কোনো রেজুলেশন বা প্রস্তাব প্রচলিত নিয়ম, জাতিসংঘের বিধি বা প্রযোজ্য আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, সেটিও লিগ্যাল অফিসার যাচাই করতে পারেন। বাজেটসংক্রান্ত কোনো প্রস্তাবের ক্ষেত্রে অন্য কোনো কমিটির অনুমোদন প্রয়োজন কি না, সে বিষয়েও তিনি সভাপতিকে পরামর্শ দেন।
অর্থাৎ, সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে খলিলুর রহমানকে যেসব সিদ্ধান্ত নিতে হবে, সেসব সিদ্ধান্তের আইনি ও প্রক্রিয়াগত দিক পর্যালোচনা করে তাকে পরামর্শ দেওয়াই জাইমা রহমানের লিগ্যাল অফিসার হিসেবে মূল দায়িত্ব।



