ঘুষ দাবির কথোপকথনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় লক্ষ্মীপুর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আমিনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “আমাকে ২ কোটি দেন, সব সই করে দেব।”
ঘটনার পর সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। কমিটির প্রধান করা হয়েছে পিডিবির ময়মনসিংহ অঞ্চলের পরিচালন ও সংরক্ষণ সার্কেল-১ এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এস এম ইকবালকে।
বরখাস্ত ও তদন্ত কমিটির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিডিবির কুমিল্লা বিতরণ অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী শেখ ফিরোজ কবির।
রবিবার রাতে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ৮ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের ভিডিওতে নুরুল আমিনকে বলতে শোনা যায়, “এসি স্যার রাজি হয়ে গেছে, কোনো একটা কারণে। আমি দুই কোটি টাকা থেকে নড়ব না। ছয় কোটি টাকা, তিনগুণ না, আমি দুই কোটি টাকার কমে নড়ব না। চেয়ারম্যানের কাছে যেতে হলে যাব।”
তিনি আরও বলেন, “দেখি চেয়ারম্যান কী কয়। একটা বিলের জন্য যদি দুই কোটি টাকা নিই, তাহলে চেয়ারম্যান কি আমার বিরুদ্ধে যাবে? আমাকে জায়গামতো পোস্টিং দেবে। সোজা হিসাব, তিন লাখ টাকার ওয়ার্কে মালামাল লাগে ৩০ লাখ টাকা। তাহলে কত কোটি টাকার মাল সে আত্মসাৎ করছে! হিসাব করে দেখা যাবে, পাঁচ কোটি টাকার মাল সে আত্মসাৎ করেছে। পাঁচ কোটি থেকে আমাকে দুই কোটি টাকা দেন, আমি সব সই করে দেব।”
ভিডিওর আরেক অংশে দেখা যায়, নুরুল আমিনের সরকারি বাসভবনে কয়েকজন ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি টাকা নিচ্ছেন। ওই ব্যক্তিদের মুখ স্পষ্ট দেখা যায়নি, পরিচয়ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কোন প্রেক্ষাপটে এই লেনদেন হয়েছে, তাও জানা যায়নি। সেখানে নুরুল আমিন জানতে চান, “এখানে কত?” জবাবে একজন বলেন, “৩৫ স্যার।” নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, “এক লাখ ৩৫?” ওই ব্যক্তি বলেন, “আগে দিয়েছি এক লাখ স্যার।”
ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সোমবার নুরুল আমিন কার্যালয়ে আসেননি। বক্তব্য জানতে মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি। কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
সদরের কয়েকজন ঠিকাদারের অভিযোগ, লক্ষ্মীপুরে যোগদানের পর থেকেই কমিশন বাণিজ্যে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন নুরুল আমিন। ঘুষ না দিলে তিনি বিল আটকে রাখতেন, কাজের অনুমোদন দিতেন না, জটিলতা দেখিয়ে টাকা আদায় করতেন। এভাবে নামে-বেনামে তিনি কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে তাদের দাবি। তারা আরও জানান, তিনি মাঝেমধ্যে অফিসও করতেন না।



