Friday, October 02, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

গোপালগঞ্জ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন পান না ৭ বছর

ঢাকা বোর্ড থেকে পাঠদানের অনুমোদন পাওয়া বিদ্যালয়টিতে নেই শ্রেণিকক্ষ, স্যানিটেশন ও নিরাপদ পানি

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে লাইব্রেরির পাশে মনোরম পরিবেশ স্কুলটির যাত্রা শুরু ২০১৭ সালে। নাম দেওয়া হয় গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজ। তখন ১৬ জন শিক্ষক ও ৩ জন কর্মচারী নিয়োগ হয়। প্রথম বছর এখানে ৬৭৫ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। খোলা হয়নি কলেজ শাখা। 

তবে ২০১৯ সালের পর শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতা বন্ধ হয়ে যায়। ২০২০ সালে ঢাকা বোর্ড থেকে বিদ্যালয়টি পাঠদানের অনুমোদন পায়। পরে স্কুলটি ভিসির বাসভবনের পাশে স্থানান্তর করা হয়। তারপর থেকেই বিদ্যালয়টির সৌন্দর্য্য হারাতে থাকে। শ্রেণিকক্ষ সংকট, নিরাপদ খাবার পানির অভাব, স্যানিটেশন ও পরিবহন সমস্যায় বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমতে থাকে। বর্তমানে এ বিদ্যালয়ের প্লে শ্রেণি থেকে ১০ম শ্রেণিতে মাত্র ১৬০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে।

৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী রুকাইয়া খানম বলে, “আমি এখানে প্লে থেকে ৫ শ্রেণিতে পড়ছি। ওয়াশ রুম ও নিরাপদ খাবার পানির সমস্যা রয়েছে। ভিসি স্যার আমাদের এ সমস্যা সমাধান করবেন বলে আমি প্রত্যাশা করছি।”

৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফরিদুজ্জামান আহসাফ বলে, “ওয়াশ রুমের সঙ্গে ঝোপ-জঙ্গল। সেখানে সাপ থাকে। ভয় লাগে। বৃষ্টি হলে ক্লাস রুমের চাল দিয়ে পানি পড়ে।”

৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিয়ান বলে, “রোদে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ক্লাস করতে হয়। বৃষ্টি হলে টিনের চাল দিয়ে পানি পড়ে ভিজে যাই। খুব কষ্ট করে ক্লাস করি। স্কুলে  খেলার মাঠ নেই। শ্রেণি কক্ষের অবস্থা খুব খারাপ। স্কুলের খেলার মাঠ ও নতুন ভবন চাই।”

প্রাক প্রাথমিকের তাইবুল্লাহ রোহান ও প্লে শ্রেণির শিক্ষার্থী আশিকুল্লাহর মা তাসলিমা বেগম বলেন, “এখানে শিক্ষকরা আন্তরিকতার সঙ্গে পাঠদান করেন। তারা শিশুদের সুন্দরভাবে টেক কেয়ার করেন। তাদের কারণেই দুই ছেলেকে অন্য স্কুলে দেইনি। তারা এখানেই  পড়ছে।” 

৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী আব্দুর রহিমের মা সায়লা জামান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের চমৎকার ও নিরাপদ পরিবেশ শিশুদের মানসিক এবং সামাজিক বিকাশে সাহায্য করে। এ কারণে এখানে সন্তানকে ভর্তি করিয়েছে। কিন্তু এখানে সমস্যা অনেক বেশি।”

বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মো. নাজমুল ইসলাম নাহিদ বলেন, “আমি এ স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করেছি। এখন গোপালগঞ্জ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সিএসই বিভাগে পড়ছি। স্যার-ম্যামরা বিদ্যালয়টিকে নিজের সন্তানেরমতো করে গড়ে তুলেছেন। কিন্তু তারা বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। এটি খুব কষ্টের। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত সমাধান দেবে বলে আশা প্রকাশ করছি।”

বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ঈমান আলী বলেন, “আমি বর্তমানে গোপালগঞ্জ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগে পড়াশোনা করছি। আমাদের সময় বিদ্যালয়ের অবস্থা খুব ভালো ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অবহেলায় বিদ্যালয়টি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। বিদ্যালয়টিকে মডেল বিদ্যালয়ে পরিণত করতে হবে।”

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজ

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাদিম আহমেদ বলেন, “২০১৯ সালে ভিসি চলে যওয়ার পর আমাদের বেতন-ভাতা বন্ধ হয়ে আছে। স্কুলটি লাইব্রেরির পাশ থেকে স্থানান্তর করে ভিসির বাড়ির পাশে আনা হয়। তারপর থেকে সংকট বাড়তে থাকে। এখন শিক্ষার্থী কমে যাচ্ছে।” 

সহকারী শিক্ষক আলেয়া বেগম বলেন, “দীর্ঘ ৭ বছর বেতন-ভাতা পাচ্ছি না। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া বেতন ও আমাদের নিজেদের টাকা দিয়ে স্কুল চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের পরিবার পরিজন নিয়ে চলতে খুব কষ্ট হচ্ছে। কোনো কোনো শিক্ষক খুলনা, কোটালীপাড়া ও বিভিন্ন জেলা, উপজেলা থেকে নিয়মিত স্কুল করেন। তাদের কষ্ট আরও বেশি। আশা করি, সদ্য যোগদান করা ভিসি স্যার বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনা করবেন।”

উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. সোহেল হাসান বলেন, “বিদ্যালয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্গানোগ্রামে নেই। তবে এখানে বিদ্যালয় হয়েছে। শিক্ষক, কর্মচারী-শিক্ষার্থীও রয়েছে। আমরা এটি অর্গানোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত করব। এরপর ইউজিসির অনুমোদন নিয়ে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হবে। স্কুলের ব্যাপারে যা যা করার, তা আমরা তা করব।”

   

About

Popular Links

x