অ্যালকোহলজাত পণ্যের অবৈধ মজুদ এবং শুল্ক-ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগে রাজধানীর চার প্রতিষ্ঠানে একযোগে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) যৌথ দল। অভিযানে ২৩০ বোতল মদ, ৬০৮ লিটার লিকার, অনুমোদনহীন বিদেশি জিনসেং এবং শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা উচ্চমূল্যের জাফরান জব্দ করা হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ফু-ওয়াং বোলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড, র ক্যানভাস বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, হলিডে ইন ও মার্গারিটা লাউঞ্জে এ অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে অংশ নেন এনবিআরের আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট, সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি), মূসক নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং ঢাকা উত্তরের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কর্মকর্তারা। রাত সাড়ে ১০টায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এনবিআরের আওতাধীন চারটি সংস্থা সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করে। স্পেশাল র্যাপিড ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ও বাংলাদেশ আনসার অভিযানে সার্বিক সহায়তা ও সশস্ত্র নিরাপত্তা দেয়।
একটি দল গুলশানের ফু-ওয়াং বোলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডে অভিযান চালায়। অভিযানের শুরুতে এক রেস্তোরাঁ চত্বর থেকে কাভার্ড ভ্যানে সরিয়ে নেওয়ার সময় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২৩০ পিস অনুমোদনহীন মদ ও লিকার জব্দ করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি এসব পণ্যের কোনো বৈধ কাগজপত্র বা আমদানির চালান দেখাতে পারেনি।
এ ছাড়া ওষুধ প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়া আনা প্যাকেটজাত শর্তযুক্ত আমদানি পণ্য “জিনসেং” এবং কাস্টমস শুল্ক ফাঁকি দিয়ে সুটকেসে লুকিয়ে রাখা প্রায় ১ কেজি উচ্চমূল্যের জাফরান জব্দ করা হয়।
উত্তরার মার্গারিটা লাউঞ্জ নামের একটি বারে অভিযান চালিয়ে মোট ৬০৮ লিটার অবৈধ ও অনুমোদনহীন মদ ও লিকার উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে মাত্র ৩৬ লিটার ছিল দেশীয় কেরু অ্যান্ড কোম্পানির তৈরি, তবে সেটিরও সঠিক ক্রয়সংক্রান্ত কাগজপত্র সন্দেহজনক ছিল। বাকি ৫৭২ লিটারই ছিল সম্পূর্ণ অবৈধ বিদেশি মদ।
তেজগাঁওয়ের আন্তর্জাতিক হোটেল হলিডে ইনের বারে অভিযানে দেখা যায়, বারটি হলিডে ইনের নামে নয়, “হাবিব হোটেল” নামে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সে চালানো হচ্ছিল। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের যথাযথ অনুমোদন বা রূপান্তর ছাড়া এভাবে বার পরিচালনার পক্ষে তারা কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। অভিযানে নথিপত্র ও সফটওয়্যারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
গুলশানের র ক্যানভাস বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট থেকে ২৯ লিটার অনুমোদনহীন লিকার জব্দ করেছে যৌথ দল।
সংবাদ সম্মেলনে কর্মকর্তারা জানান, অভিযান চালানো প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব সফটওয়্যার, সার্ভার ও ডেটাবেজ থেকে ক্রয়-বিক্রয়, মজুত ও আমদানির তথ্য এবং স্থানীয় ক্রয়ের চালান সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব তথ্য আড়াআড়িভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে। তদন্ত শেষে দ্রুতই পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন ও আইনগত ব্যবস্থা প্রকাশ করা হবে।



