চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে বিশেষ এক ডিভাইসের মাধ্যমে রোগ নির্ণয়ের নামে প্রতারণা করার অপরাধে আলিমুল ইসলাম (আলীমুল ইসলাম) নামে এক ভুয়া চিকিৎসককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রবিবার রাতে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কলেজ গেট এলাকার একটি ফার্মেসিতে অভিযান চালিয়ে উপজেলা প্রশাসন এই জরিমানা করে এবং ভবিষ্যতে চিকিৎসা পেশায় যুক্ত না হওয়ার শর্তে তার কাছ থেকে মুচলেকা আদায় করা হয়।
অভিযুক্ত আলিমুল ইসলাম বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বাহেরঘাট এলাকার আব্দুল আলী হাওলাদারের ছেলে।
প্রতারণার শিকার একাধিক রোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত আলিমুল ইসলাম নিজেকে এমবিইএইচ (ভারত), ডিএমএফ (ঢাকা) এবং কলকাতার এনআরএস মেডিকেল কলেজে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিতেন। এছাড়া তিনি মেডিসিন, চর্ম, যৌন ও অ্যালার্জি রোগের চিকিৎসায় অভিজ্ঞ বলে ব্যবস্থাপত্রে দাবি করতেন। দালালের মাধ্যমে আকৃষ্ট হয়ে প্রবীণ ও সাধারণ রোগীরা তার শরণাপন্ন হতেন। সেখানে রোগীদের বিশেষ ডিভাইসে হাত রাখা এবং ল্যাপটপ ব্যবহার করে সব ধরণের রোগ নির্ণয়ের নাটক সাজানো হতো। পরবর্তীতে যে ফার্মেসিতে তিনি চেম্বার করতেন, সেখান থেকেই বিপুল পরিমাণ ওষুধ কিনতে বাধ্য করা হতো রোগীদের। বহু বছর ধরে বরিশাল সদর, উজিরপুর ও বাবুগঞ্জের মাধবপাশা বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় তিনি এভাবে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিলেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা উল হুসনার নেতৃত্বে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ এনএমএস ফার্মেসিতে আকস্মিক এ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে যুক্ত থাকা উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিকেল অফিসার তূর্য অধিকারী জানান, খবর পেয়ে উপস্থিত হয়ে আলিমুল ইসলামের ডাক্তারি সনদ ও কাগজপত্র যাচাই করা হয়, যার সবই ভুয়া বলে প্রমাণ মেলে। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ চিকিৎসার নামে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা জানান, বৈধ কোনো যোগ্যতা বা সনদ ছাড়াই ডাক্তারি পরিচয় দেওয়ার অপরাধে আলিমুল ইসলামকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং প্রায় ১৫ বছর ধরে প্রতারণার কথা স্বীকার করায় তার কাছ থেকে মুচলেকা রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো চিকিৎসা কার্যক্রমে যুক্ত না হওয়ার লিখিত অঙ্গীকার প্রদান করায় তাকে কারাদণ্ড থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।



