কক্সবাজারের ঈদগাঁও ও রামু উপজেলার পাহাড়ি সীমান্ত জনপদের ঈদগাঁও–ঈদগড়–বাইশারী সড়কে দিনের আলোতেই অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের জিম্মি করে গণডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দিনদুপুরে সড়কের হিমছড়ি ঢালা এলাকায় দুই দফায় অন্তত ৫০ থেকে ৬০টি যানবাহনে লুটপাট চালায় একদল সশস্ত্র ডাকাত। এ সময় শতাধিক যাত্রীকে মারধর করে নগদ টাকা, মুঠোফোন ও মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল ৮টা এবং দুপুর ১২টার দিকে দুই দফায় ১০ থেকে ১২ জনের একদল মুখোশধারী সশস্ত্র ডাকাত সড়ক অবরোধ করে। তারা সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে যাত্রীদের অস্ত্রের মুখে গহীন জঙ্গলে নিয়ে যায়। এরপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে যাত্রীদের কাছে থাকা নগদ অর্থ, মুঠোফোন ও চেকবইসহ যাবতীয় মালামাল লুট করে নেয়।
ডাকাতির শিকার একটি বেসরকারি সংস্থার ঈদগড় শাখার ব্যবস্থাপক মো. রবিউল ইসলাম জানান, দুপুর ১২টার দিকে প্রাতিষ্ঠানিক ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে মোটরসাইকেলে ঈদগড় যাওয়ার পথে হিমছড়ি ঢালায় ডাকাতদের কবলে পড়েন তিনি। তাদের দুজনকে জঙ্গলে নিয়ে বেধড়ক মারধর করে টাকা ও দুটি মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তিনি অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘ দুই ঘণ্টা ধরে শতাধিক যাত্রীকে জিম্মি করে লুটপাট চালানো হলেও ওই সময় সড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো টহল দল উপস্থিত ছিল না।
একই সড়কের আরেক ভুক্তভোগী এনজিও কর্মকর্তা আবদুল হাকিম জানান, অটোরিকশা যোগে ঈদগড় যাওয়ার পথে ডাকাতরা তাদের ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ব্যাংকের চেকবই ছিনিয়ে নেয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাহাড়ি সড়কে প্রায়ই ডাকাতি ও অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা ঘটলেও স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ডাকাতির সত্যতা নিশ্চিত করে ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম সিফাতুল মাজদার জানান, স্থানীয় কিছু সশস্ত্র দুর্বৃত্ত সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে একাধিক যানবাহনে লুটপাট চালিয়ে পাহাড়ি জঙ্গলে আত্মগোপন করেছে। খবর পেয়ে পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে অভিযান শুরু করেছে। ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বনাঞ্চল বিশিষ্ট সড়কে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



