মানিলন্ডারিংয়ের মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ আগারওয়ালার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির উপ-পরিদর্শক মো. আশরাফুল হাসান তিন দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফুল ইসলাম শুনানি শেষে জামিনের আবেদন নাকচ করে দেন এবং এক দিনের রিমান্ড মন্জুর করেন।
এর আগে গতকাল (সোমবার) সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানী থেকে দিলীপ আগারওয়ালাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গুলশান অ্যাভিনিউয়ে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের শোরুম ও কার্যালয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে ৬৭৮ কোটি টাকার অবৈধ সোনা ও হীরা কেনাবেচা হয়।
এ ঘটনায় গত বছরের নভেম্বরে সিআইডির পরিদর্শক (ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে গুলশান থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, সিআইডির অনুসন্ধানে পাওয়া ব্যাংক হিসাব, নথিপত্র ও জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড বৈধভাবে ঋণপত্রের (এলসি) মাধ্যমে বিদেশ থেকে ৩৮ কোটি ৪৭ লাখ ৪৮ হাজার ১১ টাকা ৫২ পয়সার সোনার বার, স্বর্ণালংকার ও হীরা আমদানি করেছে।
অন্যদিকে একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় বাজার থেকে ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ ১৪ হাজার ১৪ টাকার সোনা ও হীরা কেনাবেচা, বিনিময় বা রূপান্তর করেছে।
স্থানীয় বাজার থেকে কেনা এসব সোনা ও হীরার উৎস কিংবা বিক্রেতাদের বিষয়ে কোনো বৈধ নথিপত্র সিআইডির কাছে উপস্থাপন করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।
সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগ করা হয়েছে, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডকে ব্যবহার করে চোরাচালানের মাধ্যমে অবৈধ সোনা ও হীরা কেনাবেচা করে ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ ১৪ হাজার ১৪ টাকা উপার্জন করেছেন দিলীপ আগারওয়ালা।
২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দিলীপ আগারওয়ালাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরে বিভিন্ন হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর জামিন পেয়ে তিনি কারামুক্তি পান।



