চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় শ্বশুরবাড়িতে হাতে তৈরি নাস্তার পরিমাণ কম দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে মারধরের শিকার হওয়া সিফাতুন নুর (২২) নামে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক ওই নারীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে, শুক্রবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে টানা নয় দিন চিকিৎসার পর দুপুর দেড়টার দিকে মৃত্যু হয় তার।
গত ১৪ অক্টোবর পটিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেন ভুক্তভোগী সিফাতুনের মা জুহিনুর আক্তার।
এ ঘটনার অভিযোগে তার মেয়ের শাশুড়িসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, চন্দনাইশ পৌর এলাকার বাসিন্দা নুরের মেয়ে সিফাতুনের প্রায় পাঁচ মাস আগে পটিয়ার কুসুমপুরা ইউনিয়নের পূর্ব কুসুমপুরা গ্রামের দুবাইপ্রবাসী তারেকের (২৬) সঙ্গে বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামী বিদেশে থাকায় তিনি শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছিলেন। বিয়ের পর থেকেই সিফাতুনকে শ্বশুরবাড়িতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে হচ্ছিল।
গত ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় তার মা জুহিনুর আক্তার (৫৫) মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে নিজের হাতে তৈরি কিছু নাস্তা নিয়ে যান। নাস্তার পরিমাণ কম হওয়া নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার একপর্যায়ে সিফাতুনের শাশুড়ি রিজিয়া বেগম (৬০) তার মাকে মারধর করেন। একই সময় রাশেদা বেগম (৫৫) ও সুমি আক্তার (৫২) সিফাতুনের চুল ধরে মাটিতে ফেলে মারধর করেন।
পরে, ওই রাতেই শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সিফাতুনকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ায় চিকিৎসকেরা তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করেন।
সেখানে টানা নয় দিন চিকিৎসা চলার পর শুক্রবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে বিচার ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্ত ওসি জিয়াউল হক বলেন, “১৪ অক্টোবর গৃহবধূকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে তদন্তের ভিত্তিতে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”



