চরম ভালোবাসার মুহূর্ত যে এমন ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, তা হয়তো ভাবতেও পারেননি চীনের এক দম্পতি। স্বামীর সাধারণ এক আলিঙ্গনেই ভেঙে গেছে স্ত্রীর বুকের পাঁচটি পাঁজর, এবং ফাটল ধরেছে আরও একটি পাঁজরে। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছেন, চরম অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও সূর্যালোকের অভাবে ওই নারী মারাত্মক ‘অস্টিওপোরোসিস’ বা হাড়ক্ষয় রোগে ভুগছিলেন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) চীনের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘জিংসি লাইভ’-এর বরাতে জানা যায়, সম্প্রতি শীত লাগছে জানালে ওয়াং পদবির ওই ব্যক্তি স্ত্রীকে উষ্ণতা দিতে আলতো করে জড়িয়ে ধরেন। ঠিক তখনই হঠাৎ হাড় মড়মড় করে ভাঙার শব্দ শুনতে পান তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, তীব্র যন্ত্রণায় কোঁকাতে কোঁকাতে মাটিতে বসে পড়ছেন ওই নারী।
পতি ওয়াং দাবি করেছেন, তিনি অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরেছিলেন, কোনো শক্তি প্রয়োগ করেননি। রাতে অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করার পর সকালে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সিটি স্ক্যান পরীক্ষায় চিকিৎসকেরা দেখেন, নারীর পাঁচটি পাঁজর ভেঙে গেছে এবং ষষ্ঠ পাঁজরে চিড় ধরেছে।
উহান এশিয়া হার্ট জেনারেল হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ ইয়ান ইয়ানসিয়াং জানান, তরুণ বয়সে কেবল আলিঙ্গনের চাপে পাঁজর ভেঙে যাওয়া অত্যন্ত বিরল। খতিয়ে দেখে জানা যায়, ৪৫ থেকে ৫০ কেজি ওজনের ওই নারী দীর্ঘদিন ধরে অতিমাত্রায় ডায়েট করতেন এবং রাতের খাবার এড়িয়ে চলতেন। পাশাপাশি ঘরের বাইরে না বের হওয়ায় তাঁর শরীরে সূর্যের আলো বা ভিটামিন-ডি পৌঁছাতই না। সূর্যালোকের অভাব ও অপুষ্টির কারণেই তার হাড় স্বাভাবিক শক্তি হারিয়ে অত্যন্ত ভঙ্গুর হয়ে পড়েছিল।
তবে ভাগ্যক্রমে ভেঙে যাওয়া হাড় ফুসফুসে আঘাত না করায় অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়েনি। চিকিৎসকেরা তাকে বিশেষ প্যাচ, ওষুধ ও পর্যাপ্ত বিশ্রামের মাধ্যমে সুস্থ হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। সাধারণ এক আলিঙ্গনে এমন মারাত্মক দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর হাড়ের সুস্থতায় সুষম খাবার গ্রহণ ও নিয়মিত সূর্যের আলোতে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।



