Saturday, October 24, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

এনআইডি তথ্য সংশোধনে ইসির অগ্রগতি কতদূর?

অসংগতির কারণে বাতিল হয়েছে ১৩ লাখ ৫৫ হাজার ১৫৭টি আবেদন

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০২ পিএম

জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য সংশোধনের জটিলতা নিরসনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ পর্যন্ত জমা পড়া ৬৫ লাখ ৭০ হাজার ৮৪২টি আবেদনের মধ্যে ৬৪ লাখ ৪২ হাজার ৮৩২টি আবেদন সফলভাবে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। তবে বিপুলসংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তির পরও এখনও অপেক্ষমাণ রয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ১০টি আবেদন। আর নানা অসংগতির কারণে বাতিল করা হয়েছে ১৩ লাখ ৫৫ হাজার ১৫৭টি আবেদন।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এনআইডি সংশোধনে গতি এলেও এখন মূলত তিনটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে কমিশন, দ্রুত আবেদন নিষ্পত্তি, অযৌক্তিক আবেদন বাছাই এবং জালিয়াতি প্রতিরোধ।

বর্তমানে ক্যাটাগরিভিত্তিক পর্যালোচনায় ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতেই নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে ৬৯ হাজার ২৫২টি আবেদন (এর মধ্যে ২০২৬ সালের ৬৮,২৬৯টি এবং ২০২৫ সালের ৯৮৩টি)। অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি আবেদন জমে আছে ঢাকা (১০,৬১৫টি) ও কুমিল্লা অঞ্চলে (১০,৫৫৯টি)। এ ছাড়া ময়মনসিংহ, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও রংপুরেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আবেদন ঝুলে রয়েছে।

এনআইডি সংশোধনে গতি আনতে আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিষ্পত্তির ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, মূল লক্ষ্য হচ্ছে নির্ভুলভাবে সেবা দেওয়া এবং অনর্থক ও অযৌক্তিক আবেদনগুলো দ্রুত বাতিল করা। বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে ইতিমধ্যে বিপুল আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

এনআইডিতে জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে অনলাইনে যাচাইযোগ্য শিক্ষাসনদকে (জেএসসি, মাধ্যমিক বা সমমানের) গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পরিপত্র অনুযায়ী, এসব সনদের ভিত্তিতে আবেদন ‘ক’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করে উপজেলা বা থানা নির্বাচন কর্মকর্তা নিষ্পত্তি করতে পারবেন (তবে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ প্রযোজ্য নয়)।

সিদ্ধান্তের সঠিকতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা প্রতি মাসে দৈবচয়নের ভিত্তিতে অন্তত তিনটি নিষ্পত্তি করা আবেদন যাচাই করে প্রতিবেদন পাঠাবেন।

জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন্স) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, অনেক আবেদনে চরম অসংগতি দেখা যায়, যেমন বাবা ও সন্তানের বয়সের ব্যবধান মাত্র ১০ বছর দেখানো বা ভোটার হওয়ার সময় বয়স ১৮ বছরের কম হয়ে যাওয়া। এসব আবেদন সরাসরি বাতিল করা হচ্ছে। তা ছাড়া একটি ক্যাটাগরিতে আবেদন বাতিল হলে অনেকে আবার অন্য ক্যাটাগরিতে একই আবেদন করেন, যা জট বাড়ায়।

এদিকে এনআইডি জালিয়াতি প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে ইসি। সচিব আখতার আহমেদ জানান, জালিয়াতিতে জড়িতদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে এবং ভেতরের কেউ জড়িত থাকলে নেওয়া হচ্ছে প্রশাসনিক ব্যবস্থা। জালিয়াতি আগাম প্রতিরোধে একটি নতুন প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা চালুর সম্ভাব্যতাও যাচাই করা হচ্ছে।

ইসি কর্মকর্তারা মনে করছেন, প্রতি মাসে গড়ে ৮০ থেকে ৯০ হাজার নতুন আবেদন জমা পড়ার এই চাপ সামলাতে নিবন্ধনের শুরুতেই সঠিক তথ্য নিশ্চিত করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নতুন আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেন সংশোধনের প্রয়োজনই না পড়ে, সে লক্ষ্যে কাজ করছে কমিশন।

   

About

Popular Links

x