Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

অবশেষে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের হেফাজতে ‘রাজা সীতারাম রায়ের পালঙ্ক’

‘এটি রাজা সীতারাম রায়ের ব্যবহৃত পালঙ্ক কিনা তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য মাগুরা জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।’

আপডেট : ০৩ জুন ২০১৯, ১০:০১ পিএম

‘রাজা সীতারাম রায়ের’ আলোচিত সেই রাজ পালঙ্ক দাপ্তরিকভাবে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মাগুরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে সোমবার প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ খুলনার আঞ্চলিক পরিচালকের প্রতিনিধি দলের কাছে এটি হস্তান্তর করা হয়।

এ বিষয়ে মাগুরা জেলা প্রশাসক আলী আকবর জানান, এটি সেই পালঙ্ক কিনা সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য তিনি পান নি। তাই তার বাসভবনে থাকা পালঙ্কটি রাজা সীতারাম রায়েরই কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এটির প্রকৃত পরিচিতি নিশ্চিত হওয়ার জন্য সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে জাতীয় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের মহাপরিচালক বরাবর চিঠি দেওয়া হয়। সেই চিঠির সূত্র ধরে খুলনার প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের একটি প্রতিনিধি দল সোমবার (৩ মে) সকালে এসে পালঙ্কটিকে নিয়ে যান।

জেলা প্রশাসক জানান, পালঙ্কটি ব্যবহারের উপযোগী নয়। এটি জেলা প্রশাসক মাগুরার বাসভবনের স্টোররুমে সংরক্ষিত ছিল। কিন্তু দু’একটি গণমাধ্যমে এটি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় বিভিন্ন প্রশ্ন ওঠে। যার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি নিজে এ সংক্রান্ত সমস্ত নথিপত্র ঘেঁটেছেন। তবে সেটি সীতারাম রায়েরই পালঙ্ক কি না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং এই পালঙ্কটি অতীতে অনেকে ব্যবহার করেছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তা কর্মচারিদের কাছে জেনেছেন। 

এসব কারণে তিনি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ঢাকায় চিঠি দিয়ে এটি প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের জন্য বলেছেন।

এ বিষয়ে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ খুলনার আঞ্চলিক পরিচালক আফরোজা খানম মিতা ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘এটি রাজা সীতারাম রায়ের ব্যবহৃত পালঙ্ক কিনা তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য মাগুরা জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে এ সংক্রান্ত কোনো নথিপত্র পাওয়া যায়নি। তবুও এটির নুন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য থাকলে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ সংরক্ষণ করবে।’’

প্রসঙ্গত, ষোড়শ শতাব্দীতে মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সময় ভূষণা রাজ্যের রাজা সীতারাম রায় এই পালঙ্কে বিশ্রাম নিতেন। মাগুরার মহম্মদপুর ছিল এই রাজ্যের রাজধানী। সীতারাম রায়ের রাজত্বের সীমারেখা ছিল উত্তরে পাবনা থেকে দক্ষিণে সুন্দরবন পর্যন্ত বিস্তৃত। তার অস্ত্র ভাণ্ডারের স্মৃতি হিসেবে কিছু তরোবারি মহম্মদপুর থানায় পুলিশের মালখানায় রয়ে গেছে। আর যে পালঙ্কটিতে তিনি বিশ্রাম নিতেন সেটি দীর্ঘদিন ধরেই ছিল মাগুরা জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ ও সংস্কার কাজের সুবিধার জন্যে প্রত্নতাত্ত্বিক এই নির্দশনটি ট্রেজারি থেকে কখনো রেকর্ডরুমের স্তুপে, কখনো জিম্মাখানার অন্যান্য অব্যবহৃত উপকরণের পাশে ঠাঁই পেয়েছে। সর্বশেষ অবস্থান ছিল ট্রেজারি রুমের পাশে রেকর্ড রুমে দলিল-দস্তবেজের মধ্যে। বর্তমানে এ পালঙ্কে জেলা প্রশাসক ঘুমান- কয়েকটি সংবাদ মাধ্যম এমন তথ্য দিলে বিষয়টি আলোচনায় আসে।

   

About

Popular Links

x