ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের তীব্র আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী ঢাকার মিরপুরসহ সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুর শিল্পাঞ্চল। দিনভর সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার মধ্য দিয়ে শিল্পাঞ্চলগুলোতে ব্যাপক সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
রবিবার (১ নভেম্বর) উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সাভার ও আশুলিয়ায় ১৭৭টি এবং গাজীপুরে শতাধিকসহ মোট তিন শতাধিক তৈরি পোশাক কারখানায় এক দিনের জন্য ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। সহিংসতার ঘটনায় রাজধানীর মিরপুর থেকে ২৯ জন এবং গাজীপুর এলাকা থেকে ২০ জনসহ মোট ৪৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকেই গাজীপুরের কোনাবাড়ী, শফিপুর ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় শ্রমিকরা সড়কে নেমে আন্দোলন শুরু করেন। একপর্যায়ে কোনাবাড়ী ফ্লাইওভারের নিচে থাকা একটি পুলিশ বক্সে আগুন দেয় উত্তেজিত শ্রমিকরা। ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে টানা প্রায় ছয় ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। পরবর্তীতে পুলিশ, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে বিকেল ৩টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। একই সময়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুরেও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটে।
অন্যদিকে রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ১১ ও ১২ নম্বরসহ আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করায় নিরাপত্তার স্বার্থে দুপুরে মিরপুর ১০, ১১ ও পল্লবী মেট্রোরেল স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
শ্রমিক অসন্তোষের মাঝেই সকালে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। পরবর্তীতে দুপুরে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সার্বিক পরিস্থিতি অবহিত করেন।
শিল্পাঞ্চলের এই বিরূপ পরিস্থিতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনায় রোববার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী।



