Sunday, November 01, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সিইসির পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে সমাবেশ, রামলীলা ময়দানে জনস্রোত

ময়দান ছাড়িয়ে আশেপাশের কনট প্লেসসহ বিস্তৃত এলাকা বিরোধী কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে পূর্ণ হয়ে যায়

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের ডাকা প্রতিবাদ সমাবেশে মানুষের ঢল নেমেছে। যানবাহনের ওপর কড়াকড়ি ও নানা প্রশাসনিক বাধা সত্ত্বেও রোববার দুপুরের আগেই ১২ একরের রামলীলা ময়দান ছাড়িয়ে আশেপাশের কনট প্লেসসহ বিস্তৃত এলাকা বিরোধী কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে পূর্ণ হয়ে যায়।

রবিবার (১ নভেম্বর) নির্বাচনে কারচুপি ও ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে আয়োজিত এই বিশাল সমাবেশে যোগ দিতে বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতারা সকালে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনে একত্রিত হন। দুপুর ১২টার দিকে খাড়গে ছাড়াও রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব, ন্যাশনাল কনফারেন্স প্রধান ফারুক আবদুল্লাহ, পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি, ঝাড়খণ্ডের কল্পনা সোরেন, শিবসেনার সঞ্জয় রাউত এবং সিপিআইএমএল-এর দীপংকর ভট্টাচার্যসহ শীর্ষ নেতারা হুডখোলা গাড়িতে চেপে রামলীলা ময়দানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।

মিছিলটি কনট প্লেস ও মিন্টো রোডের সংযোগস্থল থেকে শুরু হয়ে রামলীলা ময়দানের দিকে এগোলে হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক তাদের সঙ্গে যোগ দেন। মাত্র এক কিলোমিটারের পথ অতিক্রম করতে নেতাদের সময় লাগে প্রায় দুই ঘণ্টা। ময়দান পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে দিল্লি পুলিশ ভেতরে ঢোকার ফটকগুলো বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। ফলে বিপুলসংখ্যক বিক্ষোভকারী ভেতের প্রবেশ করতে না পেরে বাইরের রাজপথ ও কনট প্লেস চত্বরে ছড়িয়ে পড়েন।

সমাবেশকে কেন্দ্র করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে রামলীলা ময়দান ও লুটেন্স দিল্লি এলাকায় প্রায় ১০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়। অরাজনৈতিক প্রেশার গ্রুপ 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি) আনুষ্ঠানিকভাবে মিছিলে অংশ না নিলেও ভোট চুরির প্রতিবাদ ও সিইসির পদত্যাগের দাবিতে এই আন্দোলনকে সমর্থন জানায়। মিছিলে তাঁদের অসংখ্য তরুণ-তরুণীকে প্রতীকী পোস্টার হাতে হেঁটে যেতে দেখা গেছে।

এদিকে ইন্ডিয়া জোটের এই কর্মসূচি ঘিরে ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলেন রাহুল গান্ধী। তিনি দাবি করেন, সমাবেশের উপস্থিতি কম দেখাতে এবং অস্থিতিশীলতা তৈরির অজুহাতে বিজেপির নির্দেশে আশপাশের সব দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়েছিল। এর আগে বিরোধী জোটের সমাবেশ পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়ে ব্যবসায়ীদের একাংশের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও বিরোধীরা অভিযোগ করেন।

নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের একদফা দাবিতে বিরোধী জোটে এই ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি ভারতীয় রাজনীতির মাঠে নতুন উত্তাপ তৈরি করেছে।

   

About

Popular Links

x